রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থিত চান্দু মোল্লা মৎস্য আড়তে শুক্রবার দুপুরে এক চাঞ্চল্যকর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে চান্দু মোল্লার খালাতো ভাই মমিন মণ্ডল ও ভাগনে শাহাদাৎ ব্যাপারী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ওইদিন বেলা একটার দিকে। স্থানীয় রমজান শেখ নামে এক ব্যক্তি চান্দু মোল্লার আড়তে মাছ বিক্রি করতে আসেন। এ সময় মাছের দরদাম নিয়ে তাঁর সঙ্গে চান্দু মোল্লার কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হয়। এরপর উভয়েই সেখান থেকে চলে যান। কিন্তু তার অল্প কিছুক্ষণ পরেই বেলা দেড়টার দিকে রমজান নিজের ছোট ভাই জয়নাল শেখ ও স্থানীয় আমিন মণ্ডলসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আড়তে ফিরে আসেন এবং সেখানে হামলা চালান।

হামলার সময় চান্দু মোল্লা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর আড়তের দায়িত্বে ছিলেন মমিন মণ্ডল ও শাহাদাৎ ব্যাপারী। হামলাকারীরা মমিন মণ্ডলের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়, ফলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় জখম হন। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে শাহাদাৎ ব্যাপারীকেও বেদম মারধর করা হয়। আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত সরে পড়ে। তবে চলে যাওয়ার সময় তারা আড়তের ককশিট বাক্সে রাখা প্রায় দুই লাখ সত্তর হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

ওই ঘটনায় রোববার চান্দু মোল্লা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে রমজান শেখ (৪০), জয়নাল শেখ (৩৭) ও আমিন মণ্ডল (৩৭)-সহ মোট সাতজনের নাম উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া আরও তিন থেকে চারজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযোগ পাওয়ার পরই রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন। তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে এই হামলার ঘটনায় এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মাসুদ মোল্লা, সোহেল মোল্লা ও লালন গাছীসহ অনেকে বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন ন্যাক্কারজনক হামলা তাদের জন্য উদ্বেগজনক। তাঁরা দ্রুত বিচারকার্য সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী চান্দু মোল্লার ভাষ্য, একটি পক্ষ পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করতেই এই হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ মামলা নিলেও এখন পর্যন্ত কোনো হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। প্রসঙ্গত, চান্দু মোল্লা পদ্মা নদীতে ধরা পড়া বড় বড় মাছ কেনাবেচার জন্য এলাকায় পরিচিত এবং বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে তাঁর নাম উঠে এসেছে।