বাংলাদেশের নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায় এক দিনের ব্যবধানে দুই ভাইয়ের মৃত্যু এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া নতুনপাড়া গ্রামের কৃষক মরজেম আলীর পুত্র তুহিন আলী (৮) ও তুষার আলী (৪) অস্বাভাবিকভাবে মারা যায়। তুহিন এলাকার একটি বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।

ঘটনার পটভূমি সম্পর্কে পারিবারিক সূত্র জানায়, পারিবারিক কলহের কারণে গত ১৩ জুলাই মরজেমের স্ত্রী তুলি খাতুন তার দুই সন্তান নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যান। এরপর থেকে মরজেম একাই সন্তানদের দেখাশোনা করছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে তুহিন কলা ও চিড়া খেয়ে নিদ্রায় যায়। অন্যদিকে মরজেম ও তুষার আলুভর্তা দিয়ে ভাত গ্রহণ করে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতের দিকে তুহিনের বমি শুরু হলে তাকে দ্রুত লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবার চকশেরপাড়া কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর পরের দিন শুক্রবার দুপুরে তুষারেরও বমি শুরু হয়। তাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে শনিবার ভোরের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুত্রদের মৃত্যুর খবরে বাবা মরজেম আলী শোকে কাতর হয়ে পড়েন। দুপুরে তুষারের মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছালে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। তাকে প্রথমে লালপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, তারপর নাটোর সদর হাসপাতাল ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার ভাতিজা শুভ আহম্মদ জানান, মরজেমের অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক।

ঘটনার নেপথ্যে ষড়যন্ত্র আছে বলে দাবি করেছেন মৃত শিশুদের মাতামহ হাবিবর রহমান। তার মতে, শিশুদের পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনা রহস্যজনক। শিশুদের মা তুলি খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। তুষারের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অপর ভাই তুহিনের মরদেহ ইতিমধ্যে দাফন করা হয়েছে, তাই তার ময়নাতদন্ত সম্ভব হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে সবকিছু পরিষ্কার হবে বলে তিনি আশাবাদী।