ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের নামে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার সাত আসামির মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলমের আদালতে মো. তাহসীন ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই বিধানে প্রধান আসামি শাহ আমানত সাবির তার স্বীকারোক্তি দেন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে। জবানবন্দি শেষে আদালত দুই আসামিকেই কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
অপর পাঁচ আসামি — মো. হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান ও মো. বায়োজিত — রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে তাদেরও জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এ মামলায় গ্রেপ্তার মোট সাতজনের কাউকেই জামিন দেননি আদালত।
মামলার নথি ও রিমান্ড আবেদনের তথ্যানুযায়ী, ৫ জুলাই যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠে অভিযান চালিয়ে শাহ আমানত সাবির, মো. হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান ও মো. বায়োজিতকে আটক করা হয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যশোর থেকে মো. তাহসীন ইসলাম ওরফে সুলতাকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ জুলাই এই সাতজনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ১২ জুলাই আদালত পুলিশের আবেদনে সাড়া দিয়ে সাত আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডের অনুমতি দেয়। পরবর্তীতে প্রধান আসামি শাহ আমানত সাবির ও মো. হোসাইন তানিমকে আরও এক দফা তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
মামলার সূত্র জানায়, যাত্রাবাড়ী থানার এসআই এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ৬, ৭, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় মোট ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানিয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু। বর্তমানে মামলাটির তদন্তে নিযুক্ত রয়েছে পুলিশের অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মহিন উদ্দীন জানিয়েছেন, মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামির মধ্যে দুই জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, এবং আদালত সাতজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।


