নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় বালু ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনের কানে কামড় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। শনিবার ভোরে ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় মামলার বাদী ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মিয়া মোহাম্মদ সজিবের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে তাঁর পোষা ১৫টি পাখিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুন জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ঘটনার কয়েক দিন পর শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে পৌর বিএনপি। সংগঠনটির সভাপতি আলম মোল্লা দাবি করেন, ব্যবসায়ীর কানে কামড়ের ঘটনাটি সত্য নয় বরং এটি একটি ষড়যন্ত্র। তাঁর মতে, ডিজিটাল যুগে দা বা অস্ত্র ব্যবহার না করে কানে কামড় দেওয়া অকল্পনীয়। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী একটি ঘটনার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে মামলা করা হয়েছে এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই এর মোকাবিলা করা হবে। উল্লেখ্য, এ ঘটনায় অভিযুক্ত মহিউদ্দিন চিশতিয়া (৪৪) ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, টি কে খান গ্রুপের একটি প্রকল্পে বালু সরবরাহের জন্য বাদী সজিব সাখাওয়াতের কাছ থেকে একটি ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভাড়া করেছিলেন। গত সোমবার শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে সেটআপের সময় মহিউদ্দিন চিশতিয়ার নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং সাখাওয়াতকে জোরপূর্বক মহিউদ্দিনের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর ও একপর্যায়ে কানে কামড় দেওয়া হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চারটি সেলাই দিতে হয়। ওই ঘটনায় মহিউদ্দিন চিশতিয়াসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মিয়া মোহাম্মদ সজিব।

বাদী মিয়া মোহাম্মদ সজিব অভিযোগ করেছেন, মামলা করার পর থেকেই তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শনিবার ভোরের দিকে দুর্বৃত্তরা তার অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'আওয়ামী লীগের সময়ও এমন হামলার শিকার হইনি। জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি হয়েও বিএনপি নেতার ক্রোধের আগুনে পুড়ে গেলাম।' ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, একটি টিনশেড ঘরে তাঁর কার্যালয়ের জানালার গ্রিল ভাঙা এবং ভেতরে পোড়া আসবাব ও পাখির মৃতদেহ পড়ে আছে।

পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মহিউদ্দিনকে ফাঁসাতে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে মামলার বাদী সজিবের দাবি, প্রকৃত ঘটনা সামনে আনতেই তাঁকে লক্ষ্য করে এই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানানো হয়েছে।