একটি পুরনো ঘটনার মাধ্যমে মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এক কবির পায়ে জুতা না থাকায় তিনি মন খারাপ করে ছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি দেখতে পান একজন মানুষ যার দুটি পা-ই নেই, যে কষ্ট করে চলাফেরা করছে। তখন কবি বুঝতে পারেন যে জুতা না থাকার চেয়ে পা না থাকার কষ্ট অনেক বেশি। এই দৃষ্টিভঙ্গি ইসলামের শিক্ষার সঙ্গেও সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পবিত্র হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তাদের দিকে তাকাও যারা তোমাদের চেয়ে নিম্ন অবস্থায় আছে। যারা তোমাদের চেয়ে উন্নত, তাদের দিকে তাকিও না। তা না হলে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলো তোমরা তুচ্ছ মনে করবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭২১৪)। এই নির্দেশনা মেনে চললে হীনম্মন্যতা দূর হয় এবং মানসিক শান্তি বজায় থাকে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭)। এর অর্থ হলো, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে জীবনের বরকত ও মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়।
বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য মানুষের সুখের ছবি দেখে অনেকেই নিজের জীবনের কষ্টের সঙ্গে তুলনা করে বসেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পর্দার ওপারের মানুষটার জীবনও নানা সমস্যায় ভরা। তাই নিজেকে সব সময় অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে বরং যারা বেশি বিপদগ্রস্ত, তাদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া উচিত।
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলতেন, ‘আমার ওপর কোনো বিপদ এলে আমি তাতে আল্লাহর তিনটি নেয়ামত দেখি: প্রথমত, বিপদটি আমার ধর্ম বা ইমানের ওপর আসেনি; দ্বিতীয়ত, বিপদটি এর চেয়েও বড় হতে পারত কিন্তু আল্লাহ তা করেননি; এবং তৃতীয়ত, আল্লাহ এর বিনিময়ে আমাকে আখেরাতে পুরস্কৃত করবেন।’ (বাইহাকি, শুআবুল ইমান, হাদিস: ৯৬৫১)
ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.) কৃতজ্ঞতার স্তর নিয়ে বলেছেন, ‘বান্দা যদি জানত আল্লাহ তার অজান্তে তার জীবনের কত বড় ক্ষতি ও বিপদ প্রতিদিন দূর করছেন, তবে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় ও কৃতজ্ঞতায় বান্দার হৃদয় গলে যেত।’ (মাদারিজুস সালিকিন, ২/২১৫)
সুতরাং, জাগতিকভাবে সুখী কারও সঙ্গে তুলনা না করে ভালো-মন্দ যেকোনো পরিস্থিতিতেই ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার মাধ্যমে মনের প্রশান্তি পাওয়া সম্ভব। এটি মানসিক চাপ ও হতাশা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।



