জন্মের মাত্র ২১ দিনের মাথায় হামে আক্রান্ত হয়ে একটি নবজাতক বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার মায়ের বয়স ১৫ বছর। গতকাল রোববার হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করে নিজের বিস্ময় প্রকাশ করেন। এত কম বয়সী একটি শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ভাবনায় ফেলেছে চিকিৎসকদের। নবজাতক ও তার মা—দুইজনের পরিচয় গোপন রাখতে চেয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
সাধারণত ধারণা করা হয়, মায়ের দেহ থেকে প্রতিরোধ ক্ষমতা পাওয়ার কারণে নয় মাসের কম বয়সী শিশুর হাম হয় না। এ কারণেই প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী একটি শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে তাকে হামের টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর এই ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে নয় মাসের কম বয়সী বহু শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছ এবং কেউ কেউ মৃত্যুবরণও করছে।
হাসপাতালের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, এ বছর গতকাল পর্যন্ত মোট ২ হাজার ২১ জন হামে আক্রান্ত শিশু এখানে সেবা নিতে এসেছে। চমকে ওঠার মতো তথ্য হলো, এদের মধ্যে ৩৯০ জনের বয়সই ছয় মাসের নিচে। গত শনিবার রাতে শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থেকে একই শিশুকে নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি হন ওই কিশোরী মা। চিকিৎসকদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, সন্তানের জন্ম দেওয়ার ১০ দিন পর নিজে হামে আক্রান্ত হন তিনি। পরে তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেও কিছুদিনের মধ্যেই হামের লক্ষণ দেখা দেয় তার নব্নতক সন্তানের দেহে।
রোগীর ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, ১৫ বছর বয়সী এ মা কখনো হামের কোনো টিকা গ্রহণ করেননি। চিকিৎসকদের ধারনা, মায়ের কাছ থেকে কোনো ধরনের প্রতিরোধ ক্ষমতা না পেয়ে জন্মা এ নবজাতক পরবর্তীতে মায়ের সূত্রেই হামে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে। মায়ের জন্ম হয় ২০১১ সালে। সেই হিসাবে পরের বছরই তার হামের টিকা পাওয়ার কথা ছিল। কেন তিনি টিকা থেকে বঞ্চিত হলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিচালক জিয়াউল ইসলাম। তিনি মন্তব্য করেন, ওই সময়ে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জনের দায়িত্বে কে ছিলেন তা খুঁজে বের করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। কেননা, এ ঘটনাটি দেশের টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।




