জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রধান ক্রীড়া আয়োজন ও নানা দিবস উদযাপনকালে রাতের বেলায় শব্দবর্ধক যন্ত্র ও আতশবাজি ব্যবহারের মাধ্যমে তীব্র শব্দদূষণ, সাধারণ মানুষের হয়রানি, বিপক্ষ সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও জুয়া কার্যক্রম ঠেকাতে সরকারের উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ রোববার (২৬ জুলাই) এই রুল প্রদান করেন। এর আগে, গত ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আট আইনজীবী—যাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম অন্যতম—ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে দেশে সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত, প্রাণহানির আশঙ্কা, সহিংসতা, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, শব্দদূষণ ও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীকালে রিটকারী পক্ষ একটি সম্পূরক আবেদনও আদালতে জমা দেয়। রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী, তাঁর সঙ্গে ছিলেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী। শুনানি শেষে রুল জারি করা হয়। রুলের বিষয়ে আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্ট রুলে বলেছেন—কেন সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তাকে বেআইনি ঘোষণা করা হবে না? তিনি আরও উল্লেখ করেন, রুলের আওতায় রয়েছে রাতের বেলায় লাউড স্পিকার ও আতশবাজি ব্যবহার করে শব্দদূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত ও জুয়া কার্যক্রম প্রতিরোধে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া। এই রুলের মাধ্যমে আদালত মূলত সরকারের দায়িত্বশীল আচরণ ও আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এখন সরকারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে জবাব দিতে হবে।