রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে অশোভন আচরণ এবং সুলতানের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের অভিযোগে ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ তাঁর পুত্রবধূ পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাউইয়াহর সব রাজকীয় উপাধি বাতিল করেছেন। চলতি মাসের প্রথমদিকে ব্রুনেই দারুসসালামের গ্র্যান্ড চেম্বারলেইনের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সুলতানের আদেশের পর এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হয় এবং রাবিয়াতুলের রাজকীয় উপাধিগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গ্র্যান্ড চেম্বারলেইনের দপ্তরের বিবৃতি অনুসারে, ‘সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন এবং রাজপরিবারের একজন সদস্যের স্ত্রী হিসেবে অনুপযুক্ত আচরণের কারণে পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাউইয়াহর উপাধি প্রত্যাহার করা হয়েছে।’ আরও উল্লেখ করা হয় যে, তাঁর কর্মকাণ্ড রাজপরিবারের সুনামও ক্ষুণ্ন করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবি নিউজ জানিয়েছে, রাবিয়াতুল আদাউইয়াহর কর্মকাণ্ডে সুলতানের প্রতি অসম্মান প্রকাশ পেয়েছে এবং রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি ঠিক কী করেছেন, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি গ্র্যান্ড চেম্বারলেইনের কার্যালয় থেকেও ‘অনুপযুক্ত আচরণ’-এর নির্দিষ্ট বিবরণ জানানো হয়নি।
৩৩ বছর বয়সী পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাউইয়াহ হলেন ব্রুনেইয়ের প্রিন্স আবদুল মালিকের (৪৩) স্ত্রী। সিংহাসনের উত্তরাধিকার ক্রমে চতুর্থ স্থানে থাকা এই প্রিন্স সুলতানের প্রথম স্ত্রী রানি সালেহার সন্তান। ২০১৫ সালে রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানের রাজপ্রাসাদে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। দশ দিনব্যাপী এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় হাজারো অতিথি অংশ নেন। এই দম্পতির চারটি সন্তান রয়েছে—১০ বছর বয়সী প্রিন্সেস মুথিয়া, ৮ বছর বয়সী প্রিন্সেস ফাতিয়্যাহ, ৬ বছর বয়সী প্রিন্সেস খালিশাহ এবং ১৬ মাস বয়সী প্রিন্সেস নাবিলাহ। প্রতিবেদন অনুসারে, মায়ের রাজকীয় উপাধি বাতিল হলেও তাঁদের রাজকীয় উপাধিতে কোনো প্রভাব পড়েনি। রাবিয়াতুল আদাউইয়াহ তাঁর ‘ইয়াং আমাত মুলিয়া পেঙ্গিরান আনাক ইস্তেরি’ উপাধি হারিয়েছেন।
রাজধানীর পর্যবেক্ষকদের মতে, সুলতান এর আগেও রাজপরিবারের সদস্যদের রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিয়েছেন। ২০০৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়াম আবদুল আজিজের রাজকীয় সব উপাধি প্রত্যাহার করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে তৃতীয় স্ত্রী আজরিনাজ মাজহার হাকিমের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পরও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু রাবিয়াতুল আদাউইয়াহর ঘটনা ভিন্ন। তিনি এখনো সুলতানের ছেলের স্ত্রী হিসেবে রাজপরিবারের একজন সদস্য। তাঁদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে কি না, সে নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সুলতানের ৮০তম জন্মোৎসব উপলক্ষ্যে বর্ণিল অনুষ্ঠানের মধ্যেই এই খবর প্রকাশিত হয়। ১৪ জুলাই জামে আসর হাসানাল বলকিয়াহ মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করেন।
৮০ বছর বয়সী সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ ব্রুনেইয়ের রাজতন্ত্রের একক শাসক। তেলসমৃদ্ধ ছোট্ট এই দেশটি বোর্নিও দ্বীপে অবস্থিত এবং চারদিক থেকে মালয়েশিয়ার ভূখণ্ড দ্বারা বেষ্টিত। ১৯৬৮ সালে ব্রুনেইয়ের ২৯তম সুলতান হিসেবে তিনি সিংহাসনে বসেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সিংহাসনে থাকা রাজা বা শাসক। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় আবাসিক প্রাসাদ ইস্তানা নুরুল ইমানে বসবাস করেন, যেখানে রয়েছে ১ হাজার ৭৮৮টি কক্ষ। বলকিয়াহর শাসনামলে ব্রুনেই বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। তিন স্ত্রীর ঔরসজাত সুলতানের মোট ১২ জন সন্তান রয়েছে। প্রিন্স আবদুল মালিক হলেন তাঁর প্রথম স্ত্রীর সন্তান, যিনি সিংহাসনের চতুর্থ উত্তরাধিকারী।




