রাজধানীর উত্তরার বিজিএমইএ কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে গতকাল শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে শান্ত–মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির (এসএমইউসিটি) ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের গ্র্যাজুয়েশন ফ্যাশন শো। 'এভরি স্টিচ টেলস আওয়ার স্টোরি' প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নবীন ডিজাইনারদের সৃজনশীলতা, কারিগরি দক্ষতা ও সমসাময়িক ফ্যাশন-ভাবনার বহুমাত্রিক উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. শাহ–ই–আলম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য মো. লুৎফর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসসিআইসির চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক ও বাংলাদেশের আধুনিক কারুশিল্পের গবেষক ও ডিজাইনার চন্দ্রশেখর সাহা। ফ্যাকাল্টি অব ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া এফডিটি বিভাগের প্রধান আফরোজা হক ডেইজি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং ফ্যাশন ও পোশাকশিল্প–সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এবারের আয়োজনে পাঁচটি স্বতন্ত্র থিমভিত্তিক কালেকশন উপস্থাপন করা হয়। স্মার্ট ক্যাজুয়াল, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, স্ট্রিটওয়্যার, ইভনিং ওয়্যার এবং ফেস্টিভ ও ব্রাইডাল অনুপ্রাণিত পোশাক—এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের নান্দনিক কারুশিল্প ও আধুনিক ডিজাইন–ভাবনার সাথে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সৃজনশীল সমন্বয় ফুটে ওঠে। জমকালো র‍্যাম্প শো, নবীন ডিজাইনারদের পরিচিতি ও অতিথিদের বক্তব্য অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। একইসঙ্গে ফ্যাশন ও পোশাকশিল্পের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা, ডিজাইনার, নিয়োগদাতা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উৎসাহব্যঞ্জক অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। আয়োজক বিভাগের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা জানান, গ্র্যাজুয়েশন ফ্যাশন শো শুধু শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল অর্জনের প্রদর্শনী নয়, বরং ডিজাইন শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্প–একাডেমিয়ার সহযোগিতার প্রতিফলন। এটি বাংলাদেশের ফ্যাশন–শিল্পের জন্য দক্ষ ও উদ্ভাবনী মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এসএমইউসিটির অঙ্গীকারেরও পরিচয় বহন করে। শিক্ষার্থীদের পেশাজীবনে প্রবেশের আগে তাঁদের প্রতিভা ও দক্ষতা শিল্প খাতের সামনে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে এই আয়োজন।