যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের পক্ষে ধনকুবেরদের অর্থের বন্যা বইলেও, দলের অন্যতম বড় অনুদানদাতা নীরব হয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রসাধনী সাম্রাজ্য এস্টি লডারের উত্তরাধিকারী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমর্থক রোনাল্ড লডার রাজনৈতিক অনুদান দেওয়া বন্ধ করেছেন। নির্বাচনী তহবিলের তথ্য বলছে, ৮২ বছর বয়সী এই ধনকুবের গত কয়েক দশকে রিপাবলিকানদের জন্য কয়েক কোটি ডলার জোগান দিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস তাকে নিউ ইয়র্কে রিপাবলিকানদের জন্য 'একক ব্যাংক' হিসেবেও বর্ণনা করেছিল।

ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের রেকর্ড বলছে, জানুয়ারি মাসে লডারের শেষ রাজনৈতিক অনুদান ছিল মাত্র ৫ হাজার ডলার, যা কনজারভেটিভ সুপার পিএসি 'সিকিউরিটি ইজ স্ট্রেংথ পিএসি'তে গেছে। অথচ মাত্র দু'বছর আগে তিনি টেক্সাসে সিনেটর টেড ক্রুজের পুনর্নির্বাচনের জন্য 'ট্রুথ অ্যান্ড কারেজ পিএসি'তে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার দান করেছিলেন। এছাড়া ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে নিউ ইয়র্কের গভর্নর প্রার্থী লি জেলদিনের জন্য গঠিত সুপার পিএসি 'সেফ টুগেদার নিউ ইয়র্ক ইনকর্পোরেটেড'কে তিনি দিয়েছিলেন ১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি। তার এই নীরবতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই নির্বাচন মৌসুমে অন্যান্য দাতারা রিপাবলিকানদের জন্য বিপুল অর্থ দান করছেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালে লডার নিজেই 'মাগা ইনকর্পোরেটেডে' ৫০ লাখ ডলার দিয়েছিলেন।

অগ্রগামী সংগঠন 'আমেরিকানস ফর ট্যাক্স ফেয়ারনেস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার ধনকুবেররা ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতোমধ্যে ৪৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ঢেলেছেন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই রিপাবলিকানদের পক্ষে। ওপেনসিক্রেটসের গবেষণা বলছে, অধিক ব্যয়কারী হাউস প্রার্থী ৯০ শতাংশের বেশি সময় জয়ী হন। যদিও একজন দাতা নীরব হলে এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হয় না, তবে নিউ ইয়র্কের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ লডার সেখানকার রিপাবলিকান দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অর্থের উৎস ছিলেন। তিনি নিউ ইয়র্ক সিটিতে ১৯৯০-এর দশকের মেয়াদসীমা প্রচারণায় অর্থায়ন করেছিলেন এবং রাজ্যের কংগ্রেসনাল মানচিত্র চ্যালেঞ্জ করে একটি মামলায় অর্থ জুগিয়েছিলেন।

রাজনীতিতে অর্থ সব নয় বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাক্তন ডিসিসি আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিচালক ক্রিস্টোফার লি জানান, দাতার অর্থ 'আপনাকে ঘরে ঢুকিয়ে দেয়' — এটি বিজ্ঞাপন, তথ্য এবং ফিল্ড অপারেশন কিনে দেয়। তবে ভোটারদের 'হ্যাঁ' বলার কারণ তৈরি করতে পারে না। রিপাবলিকান প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পেইন সলিউশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাগি পলিনের মতে, প্রচারে অর্থের গুরুত্ব অপরিসীম, কিন্তু দাতার ডলার ভাগ্য নির্ধারণ করে না।

লডার কেন রাজনৈতিক অনুদান বন্ধ করলেন তা স্পষ্ট নয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সূত্র বলছে, পরিবারের সম্পদ কমায় তার সন্তানেরা ব্যয় কমাতে চাপ দিচ্ছে। অবশ্য তার মোট সম্পদ এখনও প্রায় ৫০০ কোটি ডলার। আরেকটি কারণ হতে পারে তিনি তার উত্তরাধিকার নিয়ে মনোযোগ দিতে চান। ইতোমধ্যে এস্টি লডারের শেয়ার গত পাঁচ বছরে প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে এবং তার প্রায় সব শেয়ারই ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত কোম্পানির সর্বশেষ প্রক্সি বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি তার ক্লাস বি শেয়ারের ৯৯ শতাংশ ব্যাংকে ঋণের জামানত হিসেবে রেখেছেন। লডার তার কিছু রিয়েল এস্টেট এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমানের সংগ্রহও বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তিনি তার রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী দীর্ঘদিনের উপদেষ্টা ও বিজ্ঞাপন নির্মাতাদের বরখাস্ত করেছেন।

প্রভাব বিস্তারের পরিবর্তে তিনি উত্তরাধিকার গড়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। মে মাসে তিনি ঘোষণা করেন, তার প্রতিষ্ঠিত আপার ইস্ট সাইডের নিউ গ্যালারি জাদুঘর মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্টের সাথে একীভূত হবে। এছাড়া তিনি ওয়ার্ল্ড জুইশ কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন, যা প্রায় ২০ বছরের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। জুলাই মাসে ইজুইশফিলানথ্রপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, 'দেখুন, আমি যখন শুরু করি, তখন কারও টাকা ছিল না, তাই আমি টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখন আপনার স্কুলগুলোর অভিভাবকেরা ধনী ... আমি চাই আপনি অভিভাবকদের টাকা দেওয়ার অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে যান, কারণ আমি চাই না একদিন, যখন আমি থাকব না, আপনি সমস্যায় পড়বেন।'