প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এ বিজ্ঞান বিষয়ে ভালো ফল করতে শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয় অধ্যায়ের সম্ভাব্য প্রশ্নোত্তর তৈরি করে দিয়েছেন অভিজ্ঞ শিক্ষক। প্রাথমিক বিজ্ঞানের এই অধ্যায়টিতে খাদ্য, খাদক, শক্তিপ্রবাহ এবং পরিবেশের ভারসাম্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্নের মধ্যে উৎপাদক সম্পর্কে বলা হয়েছে, সবুজ উদ্ভিদই মূল উৎপাদক। তারা সূর্যালোক ব্যবহার করে নিজের খাদ্য নিজেরাই তৈরি করে নেয়। ঘাস, গাছপালা, সবুজ শৈবাল এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এছাড়া যেসব প্রাণী খাদ্যের জন্য অন্য জীবের ওপর নির্ভরশীল, তাদের খাদক বলা হয়। সব প্রাণীই এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। প্রথম স্তরের খাদক সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, যে সব প্রাণী সরাসরি উদ্ভিদকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তারাই প্রথম স্তরের খাদক। যেমন ঘাসফড়িং ঘাস খেয়ে থাকে, তাই এটি প্রথম স্তরের খাদক। গরু, ছাগল, হরিণও এই তালিকায় পড়ে।
বাস্তুসংস্থানে একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে যে জটিল অবস্থার সৃষ্টি করে তাকে খাদ্যজাল বলা হয়। এই জাল একই পরিবেশে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শক্তির প্রধান উৎস যে সূর্য, তা জানিয়ে বলা হয়েছে সূর্যের সৌরশক্তিই খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এক জীব থেকে অন্য জীবে সঞ্চালিত হয়। খাদ্যশৃঙ্খলে উৎপাদক থেকে শক্তি বিভিন্ন স্তরের খাদকের শরীরে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে শক্তিপ্রবাহ বলে। এই প্রবাহ সব সময় একমুখী হয়ে থাকে। যেমন, ঘাস সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে। হরিণ সেই ঘাস খেলে ঘাসের শরীরে সঞ্চিত শক্তি হরিণের শরীরে চলে আসে। শক্তি একবার উৎপাদক থেকে খাদকের দিকে গেলে তা আর ফিরে আসে না, তাই এই প্রবাহকে একমুখী বলা হয়।
বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তরে মানবজীবনে জড় উপাদানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য বায়ু, পান করার জন্য পানি এবং খাদ্যশস্য ও বাসস্থানের জন্য মাটির ওপর নির্ভরশীল। পানির ব্যবহার সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি পান করা, গোসল করা এবং চাষাবাদসহ নানা কাজে লাগে। প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য বায়ু, পানি ও মাটির প্রয়োজন। কেঁচো ও ইঁদুর মাটির নিচে বাস করে, আর মাছ ও কুমির পানিতে বসবাস করে। শক্তিপ্রবাহের ধারণা ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, বাস্তুসংস্থানে শক্তি কখনো ফিরে আসে না। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যজাল ধ্বংসের মতো ঘটনা ঘটতে পারে, যার ফলে পৃথিবী বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠতে পারে। তাই জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবর্নমেন্ট সায়েন্স হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক রমজান মাহমুদ এই প্রশ্নোত্তরগুলো প্রণয়ন করেছেন।




