চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম ডোংরা এলাকায় সাম্প্রতিক বন্যার ধ্বংসাবশেষ কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাই-বোন শামসুল আলম (৫৫) ও হাসিনা আক্তার (৫০)। বন্যায় তাদের ছোট টিনের ঘরটি তলিয়ে গেলেও পানি কমার পর ফিরে এসে দেখেন মেঝে ও বিছানার নিচে এখনও কাদা আর নোংরা পানি জমে আছে। রান্নাঘরটি পুরোপুরি ডুবে থাকায় চুলা জ্বালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে শুকনো খাবার খেয়েই দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

দুই ভাই-বোনের কেউই পুরোপুরি হাঁটাচলা করতে পারেন না। বিশেষ করে শামসুল আলমের শারীরিক অবস্থা এতটাই সঙ্কটজনক যে তিনি বিছানা থেকেই উঠতে পারেন না। ছোটবেলায় মা ও ২০ বছর আগে বাবা কালু মিয়ার মৃত্যুর পর থেকেই একা সংসার চালাচ্ছেন হাসিনা। রান্না, পরিষ্কার, ভাইয়ের দেখভাল সবকিছুই তাকে একাকী করতে হয়। বছরখানেক আগে প্রবাসী এক ভাইয়ের ছেলের পাঠানো অর্থে প্রতিবেশীরা তাদের জন্য নতুন টিনের ঘর নির্মাণ করে দেন। সেই ঘরটিই এবারের বন্যায় পানিপূর্ণ হয়ে যায়।

জানা গেছে, গত ৭ জুলাই রাত থেকে এলাকায় পানি বাড়তে শুরু করে। টানা ভারী বর্ষণে খানখানাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বর্তমানে ইউনিয়নের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গায় হাঁটুসমান পানি রয়েছে। বন্যা শুরু হলে প্রতিবেশীরা সতর্ক হয়ে শামসুল ও হাসিনাকে নিকটবর্তী একটি পাকা বাড়িতে সরিয়ে নেন। পানি কিছুটা নেমে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার তারা নিজেদের ঘরে ফিরেছেন কিন্তু এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন না।

হাসিনা আক্তার জানান, তার ভাইকে খাওয়ানো, গোসল করানো সবকিছু তাকেই করতে হয়। নিজেও শারীরিকভাবে সুস্থ নন তিনি। বন্যায় প্রাণে বাঁচলেও এখন কাদা সরিয়ে ঘর ঠিক করার মতো শক্তি নেই। তিনি বলেন, "ঘরে পানি কমেছে কিন্তু চুলা জ্বালাতে পারছি না। কিছু চাল আছে কিন্তু রান্না করব কীভাবে? আল্লাহ বিপদ দিয়েছেন, তিনিই রক্ষা করবেন।"

প্রতিবেশী মোহাম্মদ তাহসিন প্রায়ই দুই ভাই-বোনের খোঁজ নেন। তিনি বলেন, "দুজনেই প্রতিবন্ধী। ভাইয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। গত বছর বাড়ি তৈরি হয়েছিল, এখন সেটাই ডুবে গেছে। আমরা সবাই আছি, কিন্তু স্থায়ীভাবে তাদের সাহায্য করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।"

এ বিষয়ে খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম সিকদার জানান, এলাকায় বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে দুই প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আপাতত তাদের দুর্ভোগ কাটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।