সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানি-১) ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতির সম্মানহানি করেছেন বলে দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিটি আদালতের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিধি ২(৪) ও ৩(বি) অনুযায়ী যে অভিযোগ আনা হয়েছিল তা সম্পূর্ণরূপে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলস্বরূপ, বিধি ৪(১)(জি)-এর আওতায় তাকে ১৪ জুলাই থেকে পদচ্যুত করা হলো। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ মে প্রথমবারের মতো ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়েছিল। সেই বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিদের সম্পর্কে অগ্রহণযোগ্য ও অমার্জিত ভাষা ব্যবহার করে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। এর বাইরেও তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারীদের ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান, প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিদের নামে মিথ্যা ও অপবাদমূলক তথ্য প্রচার করেছেন বলেও অভিযোগ ছিল।
আরও অভিযোগে বলা হয়েছিল, তিনি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বৈধ আদেশ অমান্য করতে অন্য কর্মীদের উস্কানি দিয়ে অফিসে অশান্তি সৃষ্টি করেছেন, যা ১৯৮৩ সালের দ্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট ডিভিশন) এমপ্লয়িজ (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড আপিল) রুলস-এর বিধি ২(৪) ও ৩(বি) অনুযায়ী গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অসদাচরণ হিসেবে গণ্য। এই ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরিচ্যুতি। বিভাগীয় তদন্তে এসকল অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়ার এই ঘটনা সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা সম্পর্কিত কঠোর নীতি পুনরায় সামনে এনেছে। আদালতের ভাবমূর্তি রক্ষায় এমন কঠোর পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।




