বিদায়ী ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম ও তাঁর স্ত্রী জেনিফার সিবেল নিউসামের আয়ের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে সম্প্রতি প্রকাশিত কর নথিতে। তথ্যমতে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সময়কালে এই দম্পতির বার্ষিক আয় ছিল ১৭ লাখ থেকে ২০ লাখ মার্কিন ডলার। এই সময়ে তাঁরা ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য কর বাবদ প্রদান করেন প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ ডলার। নিউসামের কার্যালয় চার বছরের সাত শতাধিক পৃষ্ঠার কর নথি সাংবাদিকদের পর্যালোচনার জন্য উন্মুক্ত করে।

এই ডেমোক্র্যাট নেতা ২০২৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বিবেচনা করছেন, আর এমন এক প্রাক্কালেই তাঁর আর্থিক তথ্য সামনে এলো। তবে ২০২৫ সালের কর রিটার্ন প্রকাশ করা হয়নি, কারণ দম্পতি সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন এবং অক্টোবরে তা সম্পন্ন করবেন। পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিউসাম দম্পতির আয় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। প্রথম বছরেই তাদের আয় ছিল ১.৭ লাখ ডলার। ব্যতিক্রম ঘটেছিল ২০২১ সালে, যখন তারা ম্যারিন কাউন্টির একটি বাড়ি প্রায় ৬০ লাখ ডলারে বিক্রি করে ৮ লাখ ডলার মুনাফা করেন। ওই বছর তাদের মোট আয় দাঁড়ায় ৪২ লাখ ডলার, এবং কর দেন ১০ লাখ ডলারেরও বেশি।

গভর্নর হিসেবে বার্ষিক ২ লাখ ডলার বেতন পেলেও নিউসামের সিংহভাগ আয় আসে তার অন্ধ ট্রাস্টে (ব্লাইন্ড ট্রাস্ট) রক্ষিত ওয়াইনারি ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা থেকে। তবে কর নথিতে নির্দিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না থাকায় কোন ব্যবসা লাভজনক আর কোনটি ক্ষতির মুখে তা নির্ণয় সম্ভব নয়। তার মালিকানাধীন প্লাম্পজ্যাক গ্রুপ, যা একাধিক ওয়াইনারি ও রেস্তোরাঁর সমন্বয়ে গঠিত, বর্তমানে পরিচালনা করছেন তার বোন ও চাচাতো ভাই। অন্যদিকে, চলচ্চিত্র নির্মাতা স্ত্রী জেনিফার তার প্রতিষ্ঠিত ‘গার্লস ক্লাব এন্টারটেইনমেন্ট’ নামক প্রযোজনা সংস্থা থেকে অধিকাংশ বছরই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি গণমাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি নেতিবাচক চিত্রায়ণ নিয়ে ২০১১ সালে ‘মিস রিপ্রেজেন্টেশন’সহ আরও দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে।

তাদের চার সন্তানের মধ্যে তিনজনের শিশুযত্ন বাবদ কর নথিতে বার্ষিক ১৪ হাজার থেকে ৪৪ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে। প্রতি বছর দম্পতি দাতব্য সংস্থায় আর্থিক অনুদান হিসেবে ৪০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার ডলার দান করেন। শুধু তাই নয়, হাজার হাজার ডলারের কাপড়, খেলনা ও অন্যান্য সামগ্রী থ্রিফ্ট স্টোর ও অলাভজনক সংস্থায় দান করেছেন। ২০২২ সালে তারা ৪৫ হাজার ডলার মূল্যের অার্মানি ব্যবসায়িক পোশাক ওকল্যান্ডের একটি জাতিগত ন্যায়বিচার সংস্থাকে দান করেছিলেন। উল্লেখ্য, গত মাসে গভর্নর জানান, মার্কিন বিচার বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করায় তাঁর আর্থিক বিষয়াদি নিবিড় পর্যালোলার মধ্যে আছে, যদিও নিউসাম এই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছেন। এটি ২০২২ এর পর প্রথমবারের মতো নিউসাম তার কর তথ্য প্রকাশ করলেন।