বৈশ্বিক মঞ্চে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কাবু ভের্দে। বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো একটি বিশাল আয়োজন এই দ্বীপপুঞ্জকে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে নতুন করে পরিচিত করিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই আকস্মিক খ্যাতি কি আদৌ রাষ্ট্রটির জন্য মঙ্গলজনক হবে? মূল প্রশ্নটি এখন এখানেই— কাবু ভের্দে কি এই নবলব্ধ মনোযোগকে এমন এক পর্যটন শিল্পে রূপান্তরিত করতে পারবে, যা দ্বীপগুলোর অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে, আবার একইসঙ্গে ইতোমধ্যে নানা সংকটে জর্জরিত অঞ্চলগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপও সৃষ্টি করবে না?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো দেশের জন্য হঠাৎ আসা আন্তর্জাতিক খ্যাতি একটি বড় সুযোগ হলেও, তা যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে ধ্বংসের কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে। কাবু ভের্দের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি পর্যটকদের জন্য চুম্বকের মতো কাজ করছে। তবে এরই মধ্যে দেশটির কিছু জনপ্রিয় গন্তব্যে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পরিবেশগত চাপ স্পষ্টভাবে টের পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে, পর্যটক সংখ্যা বাড়তে থাকলে এই চাপ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ যুক্তি দিচ্ছেন যে, কাবু ভের্দের নীতিনির্ধারকদের এখনই টেকসই পর্যটনের মডেল তৈরি করতে হবে। এমন নীতি প্রণয়ন জরুরি যাতে পর্যটন থেকে পাওয়া আয় স্থানীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণে ব্যবহৃত হয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। অন্যথায়, বিশ্বকাপ-পরবর্তী এই ফোকাস স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনলেও দীর্ঘমেয়াদে দ্বীপগুলোর জীববৈচিত্র্য ও সামাজিক কাঠামোর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে কাবু ভের্দের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভারসাম্য রক্ষা করা। একদিকে বিশ্ব দরবারে সবার নজর এখন দেশটির দিকে, যা পর্যটন খাতের জন্য এক স্বর্ণালি সুযোগ। অপরপক্ষে, তাড়াহুড়া করে কোনোকিছু বাস্তবায়ন না করে ধীরে সুস্থে পরিকল্পিত উপায়ে এগুনোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। বিশ্বের অন্যান্য ছোট দ্বীপ দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়া হতে পারে একটি কার্যকর কৌশল। তাদের দেখতে হবে, কেবল পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং প্রতি পর্যটকের কাছে কী অভিজ্ঞতা প্রদান করা হচ্ছে এবং সেই অভিজ্ঞতা স্থানীয় অর্থনীতিতে কতটা মূল্য সংযোজন করছে, তার ওপর জোর দেওয়া জরুরি।
এই প্রতিবেদনটি সর্বশেষ আপডেট করা হয়েছে শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬।




