দেশের রপ্তানি খাতের অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহসহ অবকাঠামোগত ঘাটতিকে চিহ্নিত করেছেন শীর্ষস্থানীয় তিন ব্যবসায়ী। তাঁদের মতে, এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে সক্ষম। একইসাথে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন ও শিক্ষাপদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনারও পরামর্শ দেন তাঁরা। তাঁদের অভিমত, বাংলাদেশের জনগণ স্বাভাবিকভাবেই মেধাবী ও পরিশ্রমী; উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পেলে তারা সাফল্য অর্জনে সক্ষম।
দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মতামত প্রকাশ করেন প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, উলকাসেমির সিইও ও প্রেসিডেন্ট এনায়েতুর রহমান এবং উর্মি গ্রুপের পরিচালক ও সিইও আসিফ আশরাফ। মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে রপ্তানি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান।
উল্লেখ্য, ওই অনুষ্ঠানেই দেশের রপ্তানি খাতে অবদানের স্বীকৃতি দিতে দশমবারের মতো ‘এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস–২০২৬’ প্রদানের ঘোষণা দেয় এইচএসবিসি বাংলাদেশ। আলোচনায় অংশ নেওয়া তিন ব্যবসায়ীই পূর্বে এই পুরস্কার অর্জন করেছেন।
উলকাসেমির সিইও এনায়েতুর রহমান তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষে তিনি সিলিকন ভ্যালিতে চলে যান। সেখানে গিয়ে চিপের ব্যাপক চাহিদা দেখতে পান। ২০০৭ সালে দেশে ফিরে মাত্র চার প্রকৌশলী নিয়ে কাজ শুরু করেন; বর্তমানে তাঁদের কোম্পানিতে ৬০০ প্রকৌশলী কর্মরত। আমেরিকার ১০০টি কোম্পানি তাঁদের গ্রাহক। এমনকি অ্যাপলের ফোনের চিপ নিয়ে কাজ করছেন তাঁদের ৪০ প্রকৌশলী। রপ্তানি সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠী অত্যন্ত পরিশ্রমী; সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে পারলে তারা অসাধারণ কাজ করতে পারবে। এজন্য শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার জরুরি বলে তিনি মনে করেন। স্কুল পর্যায় থেকেই বিজ্ঞান চর্চায় যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্বজুড়ে চিপের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে, এই খাতে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নেও কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।
প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী মনে করেন, এইচএসবিসির এই উদ্যোগ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে। কৃষিপণ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রাণ গ্রুপের লক্ষ্য দেশের আরও পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়া এবং বাংলাদেশের ব্র্যান্ডকে ছড়িয়ে দেওয়া। কৃষি খাতে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ইচ্ছার কথাও জানান তিনি। চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিশ্রমী এবং উদ্যোক্তাদের পাশে থাকতে চায়; কিন্তু অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হলে রপ্তানি খাত এগিয়ে যেতে পারবে না।
উর্মি গ্রুপের সিইও আসিফ আশরাফ বলেন, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা বাড়িয়ে রপ্তানি সম্প্রসারণই তাঁদের লক্ষ্য। তবে জ্বালানি এখন প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে, যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। এছাড়া সময়মতো কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিন ব্যবসায়ীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ অবকাঠামোগত ঘাটতি এখন মুখ্য সমস্যা। রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য এই সমস্যাগুলোর সমাধান অপরিহার্য।




