মার্চের প্রথম দিনে কেবি হোমের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রব ম্যাকগিবনির কাছে দিনগুলো চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছিল। প্রথম আয় প্রতিবেদনে তাকে ২৩ শতাংশ রাজস্ব হ্রাসের খবর দিতে হয়েছিল, যা ছিল ১.০৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে নিট আয় ৭০ শতাংশ কমে ৩৩.৪ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে অবশ্য অবস্থার উন্নতি হয়নি; রাজস্ব ২৭ শতাংশ কমে ১.১ বিলিয়ন ডলার এবং আয় ৭৫ শতাংশ কমে ২৭.৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কোম্পানির শেয়ারের দামও নিম্নমুখী। ঋণ নেওয়ার খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি, ভোক্তাদের আস্থাও দুর্বল। এর সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি তেলের দাম এবং নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই সবকিছুর মধ্যে অনেক কিছুই রয়েছে যা ম্যাকগিবনির নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে কেবি হোমে ২৬ বছর ধরে কাজ করা এই অভিজ্ঞ নির্বাহী যা পারেন, তা নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি তিনি জানান, ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী তৈরি (বিল্ট-টু-অর্ডার) বাড়িগুলোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই ধরনের বাড়ির অর্ডার মোট অর্ডারের ৭৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৫৭ শতাংশ। সাধারণত এই ধরনের বাড়ির জন্য ক্রেতারা বেশি দাম দিতে রাজি হন এবং বাতিল বা ছাড় চাওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে। তবে কাস্টমাইজড বাড়ি মানে সম্ভাব্য উচ্চ বন্ধকী হারে অপেক্ষার সময়ও বেড়ে যায়। ম্যাকগিবনির ভাষ্য, ক্রেতাদের এমন জিনিসের জন্য অর্থ দিতে বাধ্য করা হয় না যা তারা চায় না, বরং তারা ঘরে সেসব জিনিস রাখতে পারে যেগুলোকে তারা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। বাড়ির নকশা, ফিনিশিং, কার্যকারিতা ও ফিচার শুধু নয়, বাজেটের সঙ্গেও তা মানানসই করার সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি মনে করেন, ক্রেতার পক্ষে নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, তিনি প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে চান, যাদের গড় বয়স এখন ৪০। যুক্তরাষ্ট্রে গত ১৫ বছরে বাড়ি ক্রেতাদের মধ্যমা বয়স ৩৯ থেকে বেড়ে ৫৯ হয়েছে। ম্যাকগিবনি স্বীকার করেন, মানুষ এখন দেরিতে বিয়ে ও সন্তান নিচ্ছে, তবে তিনি মনে করেন 'দ্রুত তৃপ্তির' প্রত্যাশাও এর পেছনে কাজ করছে। তিনি জানান, বর্তমানে এমন প্রথমবারের ক্রেতারা আসছেন, যাদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার, ফিকো স্কোর ৭৪০ এবং তারা ৭০ হাজার ডলার জমা রাখছেন। এক দশক আগে ফিকো স্কোর অনেক কম ছিল এবং আয়ও নিশ্চয়ই কম ছিল। নিজের প্রথম বাড়ি কেনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডাউন পেমেন্টের জন্য সঞ্চয় করা কঠিন ছিল। প্রথম পদক্ষেপটা কিছু ত্যাগের বিনিময়ে নিতে হয়, কিন্তু যারা পারে তারা সময়ের সাথে অনেক বেশি সম্পদ গড়ার সক্ষমতা রাখে। জেন জেড প্রজন্ম ব্যক্তিগতকরণের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে বলেই এই দুই কৌশল পরস্পর সম্পর্কিত। ম্যাকগিবনির সন্তানরাও ব্যক্তিগতকৃত নাইকি কাস্টম আইডি জুতা পছন্দ করে এবং চিপোটলে গিয়ে নিজের পছন্দমতো বুরিটো বানায়। তাই জীবনের সবচেয়ে বড় কেনাকাটাতেও তারা ব্যক্তিগতকরণের সুযোগ চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে তিনি স্বীকার করেন, অনেক তরুণ ক্রেতার পক্ষে বাড়ি কেনা সত্যিই সম্ভব নয়—বা তারা মনে করে সম্ভব নয়—এই বাস্তবতা পরিবর্তনের ক্ষমতা তার নেই। কোম্পানি বা সিইও হিসেবে গণিত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে সাশ্রয়ী মূল্যের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে কে-আকৃতির অর্থনীতিতে যতটা সম্ভব নিচে নামার চেষ্টা চলছে। যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেসবের উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রথমবারের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নতুন পরিকল্পনা কেবি হোমের সিইওর
কেবি হোমের নতুন সিইও রব ম্যাকগিবনি প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য ব্যক্তিগতকরণ ও সাশ্রয়ী মূল্যের কৌশল নিয়েছেন। রাজস্ব ও মুনাফা কমলেও তিনি নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির অর্ডারের ৭৩ শতাংশই এখন ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী তৈরি বাড়ির।




