যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নিউইয়র্ক টাইমসের কয়েকজন সাংবাদিক এবং তাদের কিছু স্বজন ও পরিবারের সদস্যের ফোন রেকর্ড সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়েছে। সোমবার একটি আদালতে উন্মোচিত এক আবেদনপত্রে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ট্রাম্পের উপহারপ্রাপ্ত কাতারি এয়ার ফোর্স ওয়ান বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য গোপন উৎস শনাক্ত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের তরফ থেকে উৎসের পরিচয় জানতে অতিরিক্ত সাবপোইনা জারি করা হয়, যা নির্বাহী শাখা ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জারি করা সাবপোইনাগুলোর সময়সীমা সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদনের চেয়েও বিস্তৃত। তাদের অভিযোগ, তদন্তের নাম করে সরকার আসলে সাংবাদিকদের উৎস সম্পর্কে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আইনজীবীদের মতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রেকর্ড চেয়ে জারি করা সাবপোইনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে বিভাগটি প্রকৃত তদন্তের চেয়ে সাংবাদিকদের উৎস সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহী।

সরকার দাবি করেছে যে সাংবাদিকরা তদন্তের লক্ষ্যবস্তু নন, বরং শ্রেণীবদ্ধ তথ্য ফাঁসকারীরাই টার্গেট। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের আইনজীবীরা বলছেন, ফোন রেকর্ডের সাবপোইনাগুলো সরকারের 'দুরভিসন্ধি' প্রমাণ করে। তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট নিজস্ব নীতি উপেক্ষা করে রেকর্ড তলব করেছে এবং কোনো গুরুতর তদন্ত ছাড়াই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জানুয়ারিতে জারি করা প্রথম গ্র্যান্ড জুরি সাবপোইনাগুলোর পাশাপাশি আরও অতিরিক্ত সাবপোইনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক সাংবাদিকের মা এবং দুই সাংবাদিকের স্বামী বা স্ত্রীর ফোন রেকর্ড চাওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের আইনজীবীরা বলছেন, এই পদক্ষেপ প্রথম সংশোধনীর অধীনে সংবাদমাধ্যমের অধিকার রক্ষার আইন লঙ্ঘন করে।

এই আইনি লড়াই চলমান। নিউইয়র্ক টাইমস গ্র্যান্ড জুরি সাবপোইনাগুলো বাতিলের জন্য আবেদন করেছে এবং আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শুনানি হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক ইতোমধ্যে উত্তপ্ত। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষাকারী সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা বলে নিন্দা জানিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে গণমাধ্যমের উপর ক্রমবর্ধমান চাপের আরেকটি উদাহরণ। ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটন পোস্টের এক সাংবাদিকের বাসায় এফবিআই তল্লাশি চালিয়েছিল এবং তার ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছিল। কাতার থেকে উপহার পাওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান জেটটি ট্রাম্প প্রশাসন ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে সংস্কার ও আপগ্রেড করলেও এই বিমানের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নিয়ে উদ্বেগ ছিল। টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শে ট্রাম্প পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ অস্বীকার করেছেন।