যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ চরমে উঠেছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা ইরানের হাতে নিহত হয়, তাহলে তেহরানকে তার ‘বহুগুণ’ মূল্য দিতে হবে। ট্রাম্প সোমবার তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, ‘যতবার ইরান কোনো মার্কিন সৈন্য হত্যা করবে, ততবারই তাদের এই হত্যার জন্য বহুগুণ মূল্য দিতে হবে।’ ট্রাম্প জানান, তিনি এই নির্দেশনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইন ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন গত সপ্তাহান্তে তিন মার্কিন সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তাদের মধ্যে দুজন জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে এবং অপরজন উত্তর ইরাকে নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের জেরেই ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানে ক্রমাগত বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা করছে। গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে একটি রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা কার্যকর হয়নি এবং দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্প ইরান ইস্যুর বাইরেও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তাঁকে কোনো অবস্থাতেই গ্রেপ্তার করা হবে না। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকলেও ট্রাম্প তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘তিনি ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, যে দেশ সম্প্রতি ৫২,০০০ নির্দোষ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে এবং গত ৪৭ বছর ধরে মার্কিন সেনা ও অন্যদের হত্যা করে আসছে।’ ট্রাম্পের মতে, শুধু তাদেরই গ্রেপ্তার করা উচিত যারা ইরানকে এই ধ্বংসযজ্ঞের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং এই বিষয়টি বহু বছর আগেই পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের সমাধান করা উচিত ছিল।

অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসনের আইনি বিভাগ নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জায়গা দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ এনেছে।’ মামদানি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের কারণেই অনেকেই এই মত পোষণ করেন। তবে নেতানিয়াহু তাঁর চলতি মাসের যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত করে আগামী সেপ্টেম্বরে পুনর্নির্ধারণ করেছেন। মার্কিন-ইরান সংকট ও নেতানিয়াহুকে ঘিরে এই রাজনৈতিক বিতর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।