চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানাধীন খাজা রোড এলাকায় দুটি কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমজুড়ে ভাইরাল হলে প্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি একটি কুকুরকে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করছেন, অন্যদিকে আরও কয়েকজন দাঁড়িয়ে দৃশ্য দেখছেন। ভিডিওতে আরেকটি কুকুরের মৃতদেহও চোখে পড়ে।

প্রাণী অধিকারকর্মীদের দাবি, গত ২২ জুলাই এ ঘটনা ঘটে। লাঠিচারি করা দুই ব্যক্তি স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রিদয় ও রাফি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অ্যানিমেল রেসকিউ টিম চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা নাহিয়ান নাকিব জানান, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তারা ঘটনার সত্যতা যাচাই করেন এবং চান্দগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। একইসঙ্গে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছেও ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের কাউকে আটক করা যায়নি। বরং তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান নাকিব।

নাহিয়ান নাকিব বলেন, শুধু দুই কুকুর হত্যা নয়, এই ঘটনা প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯-এর বাস্তব কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তার মতে, ভিডিওসহ প্রাথমিক প্রমাণ থাকার পরও প্রতিবার নাগরিককে নিজ উদ্যোগে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করতে হলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জনগণ জানতে চায়। তাদের একটাই দাবি—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে কুকুরের মরদেহ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের বরাতে তিনি বলেন, কুকুরগুলো শিশুদের কামড় দিয়েছিল এবং হাঁস-মুরগি খেয়ে ফেলেছিল, তাই স্থানীয়রা সেগুলোকে পিটিয়ে মেরেছে। তবে কারা পিটিয়েছে তা শনাক্ত করা যায়নি বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে থানায় প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

প্রাণী অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী কোনো প্রাণীর ওপর অপ্রয়োজনীয় নির্যাতন বা নিষ্ঠুর আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রকাশ্যে এভাবে নির্মমভাবে প্রাণী হত্যার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বেড়ে যেতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি শেয়ার করে চট্টগ্রামের পরিবেশকর্মী রিতু পারভী বলেন, এমন নৃশংস ঘটনার বিচার হতেই হবে।