গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় সংঘটিত সহিংস ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি প্রদান করেছেন এন আর বি মামুন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানই তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা স্বজন নামক এক আন্দোলনকারীকে গুলি করেছিলেন। এন আর বি মামুন নিজেকে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পরিচয় দেন।
সাক্ষী বিবৃতিতে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে চাষাড়ায় আওয়ামী লীগের ধাওয়ার শিকার হয়ে তারা একটি বেসরকারি হাসপাতালের গলিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। সেখানেই অয়ন ওসমানের ছোঁড়া গুলিতে স্বজন আহত হন, যিনি পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। পলাতক থাকা এই মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শামীম ওসমান, আজমেরী ওসমান, মো. মিনহাজ উদ্দিন আহম্মদ ও তানভির আহম্মেদ প্রমুখ। মামুন স্বজন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে জবানবন্দিতে ২০২৪ সালের ২১ জুলাইয়ের আরেকটি হামলার বর্ণনাও উঠে আসে। সাক্ষী জানান, সেদিন সকালে সাইনবোর্ড থেকে চিটাগং রোড অভিমুখে লোকজন নিয়ে যাওয়ার সময় একটি হাসপাতালের সামনে অবস্থানকালে শামীম ওসমান, শাহ নিজাম, ফাইজুল ইসলাম ও কমিশনার রুহুলের নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ জন দেশি-বিদেশি অস্ত্রসহ তাদের উপর অতর্কিে হামলা চালান। আত্মরক্ষার্থে পালাতে গিয়ে তিনি ডিএনডি খালে পড়ে দাঁত ভেঙে ফেলেন।
এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগমতে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে মো. পারভেজ, কিশোর আদিল, মো. ইয়াসিন, আবুল হোসেন, মো. রাসেল রানা ও ছয় বছর বয়সী শিশু রিয়া গোপকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে আসামিদের। দ্বিতীয় অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২১ জুলাই আবদুর রহমান ও রাকিব ব্যাপারীকে হত্যা এবং অসংখ্য আন্দোলনকারীকে গুরুতর জখম করা হয়। তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান নামক দুজনকে হত্যার পাশাপাশি বহু আন্দোলনকারীকে আহত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। জানা গেছে, ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন এবং আগামী ১০ জুন এ মামলার অভিযোগ গঠন ও সূচনা বক্তব্য নির্ধারিত রয়েছে।




