মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর রমজানবেগ এলাকায় মেঘনা নদীতে কচুরিপানার মধ্যে থেকে এক নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। রোববার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ওই এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মরদেহ দুটি পাঁচ থেকে সাত দিন আগের। নারীর হাত-পা বাঁধা থাকায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সকালে নদীর তীরে কচুরিপানার জটলা থেকে উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। কৌতূহলী হয়ে স্থানীয়রা কচুরিপানা সরিয়ে দেখতে পান পাশাপাশি তিনটি মরদেহ — যার মধ্যে দুটি পুরুষের এবং একটি নারীর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে, তবে তৃতীয়টি পাওয়া যায়নি।

সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ছাগলের জন্য ঘাস কাটতে মেঘনা নদীর পাড়ে যান চর রমজানবেগের বাসিন্দা মোহাম্মদ মনির হোসেন। তিনি জানান, কচুরিপানার সঙ্গে তিনটি মরদেহ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের নৌ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আলমগীর হোসেন, গজারিয়া নৌ পুলিশের পরিদর্শক সরজিৎ কুমার ঘোষসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তল্লাশির একপর্যায়ে প্রথমে এক পুরুষের মরদেহ এবং পরে প্রায় ৫০ মিটার দূরে থেকে নারীর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

বেলা দেড়টার দিকে মো. আলমগীর হোসেন জানান, বেলা ১১টার দিকে ৯৯৯-এর মাধ্যমে মরদেহ ভেসে থাকার খবর পান তাঁরা। উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটি পাঁচ থেকে সাত দিন আগের হতে পারে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন আরও একটি মরদেহের কথা জানিয়েছিলেন, তবে সেটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। উদ্ধার করা মরদেহ দুটি স্থানীয় কোনো ব্যক্তির বলে আপাতত মনে হচ্ছে না।

মরদেহ উদ্ধারের স্থানটির কাছেই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকা অবস্থিত। চর রমজানবেগের বাসিন্দা নিজামউদ্দিন বলেন, একসঙ্গে এভাবে তিনটি মরদেহ ভেসে ওঠার ঘটনা তাঁরা আগে দেখেননি। নদীর স্রোতে একটি মরদেহ ভেসে অন্য দিকে চলে যেতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তিনজনকে হত্যা করে এখানে ফেলা হয়েছে, নাকি অন্য এলাকা থেকে মরদেহগুলো ভেসে এসেছে — তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মরদেহ দুটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ কাজে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা সহায়তা করছেন। নদীতে তৃতীয় কোনো মরদেহ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।