বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বিজ্ঞানীদের একাধিক দল ডিএনএ নামে পরিচিত রহস্যময় অণুটির রহস্য ভেদ করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন। প্রতিটি জীবন্ত কোষে বিদ্যমান এই অণু বংশগতির তথ্য বহন করে, কিন্তু এর কার্যপ্রণালি তখনও অজানা ছিল। রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন ক্ষুদ্র অণুর ছবি তোলার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তিনি এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফি নামক একটি কৌশল ব্যবহার করতেন, যেখানে অণুর স্ফটিকের মধ্য দিয়ে এক্স-রে ছুড়ে দেওয়া হতো এবং ফলস্বরূপ তৈরি হওয়া ছায়া-ছায়া নকশা থেকে অণুর ভেতরের পরমাণুর বিন্যাস বোঝা যেত।

১৯৫২ সালের মে মাসে তিনি তার সেরা ছবিটি তোলেন, যেখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায় ডিএনএ আসলে একটি প্যাঁচানো মইয়ের মতো। বাংলায় এই আকৃতিকে দ্বিসূত্রক বলা হয়, অর্থাৎ দুটি প্যাঁচানো সুতা একসাথে মিলিত হয়ে গঠিত। এই আবিষ্কার ডিএনএ গবেষণার মূল ভিত্তি স্থাপন করে। পরবর্তী সময়ে জেমস ওয়াটসন, ফ্রান্সিস ক্রিক এবং মরিস উইলকিন্সের মতো বিজ্ঞানীরা এই তথ্য ব্যবহার করে ডিএনএ-র ত্রিমাত্রিক গঠন এবং জিনগত তথ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন।

রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিনের কাজের গুরুত্ব এই কারণে যে, তিনি অণুটির গঠন সম্পর্কে সঠিক এবং নির্ভুল তথ্য প্রদান করেছিলেন। তার গবেষণা না থাকলে ডিএনএ-র ডাবল হেলিক্স মডেল তৈরি করা সম্ভব হতো না। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তার অবদান দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল এবং তাকে ‘ডার্ক লেডি অব ডিএনএ’ নামে অভিহিত করা হয়। তিনি ১৯৫৮ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারে মারা যান।

তার জন্মদিন উপলক্ষে আজ তার বৈজ্ঞানিক কীর্তি স্মরণ করা হচ্ছে। তার তোলা এক্স-রে ছবি, বিশেষ করে ‘ফটো ৫১’ নামে পরিচিত ছবিটি, ডিএনএ গবেষণায় এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ছবি থেকেই ওয়াটসন ও ক্রিক তাদের বিখ্যাত মডেল তৈরি করতে সক্ষম হন। রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিনের জীবন ও কাজ বিজ্ঞানে নারীদের অবদানের একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক।