রাজধানী ঢাকার উত্তরায় নিজের সাত মাস বয়সী কন্যাসন্তান রাফা মনিকে রাস্তায় আছড়ে মারার অভিযোগে আটক বাবা কবির ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফয়সালের করা রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার উপপরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যাবেলা উত্তরা সিরাজ মার্কেটের অদূরবর্তী বালুর মাঠ এলাকায় পারিবারিক তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে কবির ইসলাম তাঁর শিশুকন্যা রাফা মনিকে রাস্তার ওপর ছুঁড়ে ফেলেন। তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের মানুষ তাঁকে ধরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পরদিন ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারামতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে উপস্থাপন করা হলে জেল হাজতে পাঠানো হয়। গুরুতর আঘাতগ্রস্ত অবস্থায় রাফা মনিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে ১৬ জুলাই দুপুরে সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর ১৭ জুলাই মৃত শিশুটির নানি শারমীন আক্তার তুরাগ থানায় কবির ইসলামকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলার আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে সেই মামলায় কবিরকে পুনরায় গ্রাফতার দেখানো হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ও তুরাগ থানার উপপ্রদর্শক মেহেদী হাসান ফরিসাল গত ২৩ জুলাই অভিযুক্তের তিন দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। আদালত শুনানির জন্য রোববারের দিন ঠিক করেন। শুনানিতে রাস্ট্রপক্ষ রিমান্ডের সপক্ষে যুক্তি তোলে। অন্যদিকে আসামির পক্ষ থেকে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। উভয়পক্ষের বক্তব্য শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ডের অনুমোদন দেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ আছে, প্রায় দুই বছর আগে রিক্সচালক কবির ইসলামের সাথে লিমা আক্তারের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। রাফা মনি ছিল তাদের একমাত্র সন্তান। অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, কবির দীর্ঘ সময় ধরে মাদকে আসহ ছিল এবং নেশা করার পর প্রায় প্রতিদিনই স্ত্রীকে প্রহার ও বাজে ভাষায় গালিগালাজ করত। ঘটনার দিন লিমা আক্তার তার অসুস্থ পিতাকে দেখতে বাবার বাড়ি যান এবং বাচ্চাটিকেও সঙ্গে নেন। সন্ধ্যার সময় সেখানে উভয়ের মধ্যে পারিবারিক ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তুমুল বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে কবির ইসলাম শিশুটিকে তার নানির ক্রোড় থেকে কেড়ে নিয়ে সোজা রাস্তায় আছড়ে ফেলে। জটিল আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তাকে সমতালে দ্রুত স্থানান্তর করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।