পটুয়াখালীতে হাঁসকে কামড়ানোর অভিযোগ তোলে দুটি কুকুরকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার নৃশংস ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো। আজ রোববার এ ঘটনায় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বাদা হয়ে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক মো. আবু বকর ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মনজু হাওলাদার (৫০) ও তাঁর চাচাতো ভাই জহির হাওলাদারকে (৩৫) গ্রেপতারের নির্দেশ দেন। বাদাপক্ষের আইনজীবী সিকদার মোহাম্মদ আল ইমরান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিচারক সদর থানার পুলিশের পাশাপাশি স্বপ্রণোদিত হয়ে অন্য কোনো সংস্থাকেও আসুনিদের গ্রেপতারের ক্ষমতা দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আদালতে আসুনিদের স্বেচ্ছায় হাজির হওয়ার সুযোগও রয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরা গ্রামের খেজুরতলা এলাকার স্থায়ী চায়ের দোকানি জাহাঙ্গীর প্যারার দুটি পালিত কুকুর ছিল। গত বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, এলাকার বাসিন্দা মঞ্জু হাওলাদারের ছয়টি হাঁসকে কিছু বেওয়ারিশ কুকুর আক্রমণ করে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরের কুকুর দুটিকে দায়ী করে তার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন মঞ্জু। কিন্তু জাহাঙ্গীর তা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা তার সমনে কুকুর দুটিকে ধরে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করে।
এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সৃষ্টি হয় চারদিক থেকে তীব্র সমালোচনার ঝড় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে। ঘটনাটি জানার পর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে সদর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বাদাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
সরকারি পক্ষের আইনজীবী জানান, প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯-এর ৭(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪২৮ ধারার আওতায় মামলাটি করা হয়েছে। সাদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টিকে 'মর্মান্তিক' আখ্যা দিয়ে বলেন, আদালতের আদেশের অনুলিপি এখনও হাতে না আসলেও, ঊর্ধ্বতনদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার সাক্ষী হিসেবে কুকুর দুটির মালিক জাহাঙ্গীর প্যাদা সহ দুজনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।




