ময়মনসিংহে নিখোঁজের ছয় দিন পর এক যুবকের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সদর উপজেলার মীরকান্দাপাড়া গ্রামের মো. সেলিম মিয়া (৩০), আবদুল কাদির ওরফে আল আমিন (২৫), মো. সেলিম ওরফে নাপিত সেলিম (৩২) ও লাল চাঁন ওরফে লালু (২৬)। জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের ভাষ্য, প্রধান অভিযুক্ত সেলিমের দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সোহেলের সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। ভালুকা, ময়মনসিংহ সদর ও মীরকান্দাপাড়ায় অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত দা, কোদাল, রক্তমাখা পোশাক ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুলাই রাত সাড়ে আটটার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন সোহেল সরকার (২৫)। পরে তাঁর পরিবার কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। ২২ জুলাই বিকেলে অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন একটি বাগানে অর্ধগলিত অবস্থায় একটি বিচ্ছিন্ন মাথা পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কাছাকাছি একটি স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি সোহেলের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় সোহেলের বাবা নূরুল ইসলাম শনিবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা ও প্রমাণ গোপনের অভিযোগে মামলা করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় শনিবার রাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান অভিযুক্ত সেলিম দাবি করেছেন, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তিন মাস ধরে সোহেল ঢাকায় গোপনে বসবাস করছিলেন। নিহত সোহেলের বোনের ভাশুর সেলিম। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি কৌশলে সোহেলকে ঢাকা থেকে ডেকে আনেন। পরে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে মরদেহের মাথা ও দেহ আলাদা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়েই মিলেছিল বিচ্ছিন্ন মাথাটি, পরে মাটি খুঁড়ে পাওয়া যায় দেহ।




