দেশের কর অঞ্চলগুলোতে উৎসে কর কর্তন তদারকি ও যাচাইয়ের কাজ জোরদার করতে বিশেষ টিম মাঠে নেমেছে। সম্প্রতি এনবিআরের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কর কর্মকর্তাদের জন্য পাঁচটি নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে, যা আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা অনুসারে প্রণীত।

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো—যেকোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ব্যবসাকেন্দ্র বা দপ্তরে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই প্রবেশ করে সরেজমিন পরিদর্শন করার ক্ষমতা। দ্বিতীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, কর কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বই, ভাউচার, ব্যাংক হিসাব বিবরণী, রসিদ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত যেকোনো নথিপত্র পরীক্ষা এবং তলব করতে পারবেন।

তৃতীয় নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম, ক্লাউড সার্ভার, ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্য পরীক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ভেঙেও সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ নির্দেশনা অনুযায়ী, উৎসে কর্তিত করের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় হিসাবের খাতা, নথিপত্র, ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা ডিভাইস সাময়িকভাবে জব্দ করে নিজস্ব হেফাজতে রাখা যাবে।

পঞ্চম ও শেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেকোনো নথিপত্র, ইমেজ বা অ্যাকাউন্টের কপি সংগ্রহ করা এবং সেখানে শনাক্তকরণ চিহ্ন বা সিলমোহর ব্যবহার করা যাবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যে পরিচালিত এসব কার্যক্রমে কোনো বাধা বা অসহযোগিতা করলে ১৪৭ (২) ধারা অনুযায়ী জরিমানার বিধান রয়েছে। এনবিআর আশা করছে, এসব নির্দেশনা কার্যকর হলে উৎসে কর কর্তনের হার বাড়বে এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।