স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে আসার পরবর্তী প্রত্যাহ্বান মোকাবিলায় পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে সরকার। রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের (সিপিডি) বৈধতা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানো, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতেই এই উদ্যোগ। শুধু নীতি বা গবেষণাপত্র তৈরি যথেষ্ট নয়, বরং সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সংস্কারের সুফল মন্ত্রণালয় থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) শিবির বিচিত্র বড়ুয়া এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন অংশীদারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

নতুন এই কর্মপরিকল্পনায় মোট ১২টি অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা জোরদার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার সম্প্রসারণ। তবে বাস্তবায়নের সময়সূচি, মোট ব্যয়, কোন উন্নয়ন সহযোগী কত অর্থ দেবে এবং কোন সংস্থা দায়িত্বে থাকবে—এসব বিষয়ে কিছু জানায়নি মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি পূর্ববর্তী দুই ধাপের এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ) কর্মসূচির কতটি সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছে, তাও উল্লেখ করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের নির্ধারিত সময়সীমা আগামী ২৪ নভেম্বর। এই সময়সীমা পেছানোর জন্য আরও তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করেছিল বর্তমান সরকার। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) আবেদনটি আমলে নিলেও তিন বছরের পরিবর্তে স্বল্প সময় দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। একইসঙ্গে আর্থিক খাত ও রাজস্ব খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে তারা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় অতিক্রম করছে। এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির পাশাপাশি অ-শুল্ক বাধা, আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের মতো চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্কের (ইআইএফ) তৃতীয় পর্যায়ের আওতায় এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইআইএফ মূলত ডব্লিউটিওর নেতৃত্বাধীন একটি বহুপক্ষীয় সহায়তা কর্মসূচি, যা এলডিসি দেশগুলোর বাণিজ্য সক্ষমতা, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারে অর্থ ও কারিগরি সহায়তা দেয়। কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (সিপিডি) সেই সহায়তা ব্যবহারের লক্ষ্যে তৈরি করা একটি রূপরেখা।