বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস তাদের বহর সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক রুট বৃদ্ধির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। রোববার কক্সবাজারের একটি হোটেলে প্রতিষ্ঠানটির ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন সংস্থাটির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

মামুন জানান, ইউএস-বাংলা ২০১৪ সালে যশোর রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে তাদের বহরে ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের ছয়টি অভ্যন্তরীণ রুট এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় একশোটি ফ্লাইট পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা ও সেবার মানকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইউএস-বাংলা বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইনস হিসেবে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) এবং আইওএসএর স্বীকৃতি লাভ করেছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে প্রথম বেসরকারি বিমান সংস্থা হিসেবে চীনের বিভিন্ন গন্তব্যে, ভারতের চেন্নাই এবং মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার কৃতিত্বও ইউএস-বাংলার। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীদের লাগেজ ১৫ মিনিটের মধ্যে সরবরাহের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মামুন বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সংস্থাটির বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। এর মধ্যে ১৫টি বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এনজি মডেলের বিমান থাকবে। এই নতুন বিমানগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ হবে।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের কথাও জানানো হয়। নতুন গন্তব্য হিসেবে কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম, কাঠমান্ডু, কলম্বো, হংকং, জোহর বাহরু ও পেনাংয়ে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ইউএস-বাংলা বর্তমানে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রদানকারী এয়ারলাইনস। আন্তর্জাতিক রুটে ইউএস-বাংলা ও রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা মিলিয়ে বাজার অংশ প্রায় ২৫ শতাংশ, যেখানে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর দখলে রয়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ। সংস্থাটির মতে, দেশি এয়ারলাইনসগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।