মডেলিংয়ে পা রাখার গল্প বলতে গিয়ে আজিম উদ্দৌলা জানান, ছোটবেলায় ফুটবল ও ক্রিকেটের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন থাকলেও ক্রিকেটার হওয়ার ইচ্ছাটাই বেশি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে বন্ধুদের উৎসাহে মডেলিংয়ের দিকে ঝোঁকেন। ঢাকা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে দুই বছরের কোর্স করেন। সেই সময় এক বন্ধুর সহায়তায় পোর্টফোলিও শুট করে ক্যানভাস ও আইস টুডেতে পাঠান। আইস টুডের একটি শুট দেখে এক্সট্যাসি ব্র্যান্ড থেকে ২০১০ সালে প্রথম কাজের ডাক পান। সেই শুটে তাঁর কো-মডেল ছিলেন তৎকালীন জনপ্রিয় মডেল আজরা ও ইমি, যারা তাকে অত্যন্ত সহযোগিতা করেছিলেন। এছাড়া আসিফ আজিম ও আসিফ খানের কাছ থেকে র‍্যাম্পে হাঁটার কলাকৌশল শিখেছেন তিনি।

প্রথম কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে ক্যাটস আই ব্র্যান্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন তিনি। ২০১০ সালে বাটেক্সপোর শো দিয়ে র‍্যাম্পে প্রথম পা রাখেন, যেখানে সানজিদা হক লুনা তাকে ডেকেছিলেন। এরপর ঢাকা ফ্যাশন উইকে হেঁটে প্রশংসা কুড়ান। এখনো র‍্যাম্পে হাঁটার আগমুহূর্তে সবাই যখন লাইনে দাঁড়িয়ে একে অপরের সঙ্গে মজা করে, সেটা তাকে শিহরণ জাগায়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুনে অর্জুন রামপালের উপস্থিতিতে জুরহেমের ‘ব্লু ড্রপস’ ফ্যাশন শোতে এবং মাস দুয়েক আগে কলম্বো ফ্যাশন উইকে র‍্যাম্পে হেঁটেছেন তিনি।

প্যারিস ফ্যাশন উইকে হাঁটার অভিজ্ঞতা তার কাছে স্বপ্নপূরণের মতো ছিল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডিজাইনার গ্রেস মুনের পোশাকে ২০২১ ও ২০২২ সালে তিনি দুবার সেখানে হেঁটেছেন। প্যারিসে থাকাকালে বেশ কিছু ব্র্যান্ডের সঙ্গেও কাজ করেন। দেশ-বিদেশের মডেলিংয়ের তুলনা টেনে আজিম বলেন, বাংলাদেশে কোনো কাঠামো গড়ে ওঠেনি; মডেলদের সবকিছু নিজে করতে হয়। অন্যদিকে, বাইরের দেশে এজেন্সির অধীনে কাজ করা সহজ এবং সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মডেলরা আসে, তাই কাজের পরিসর অনেক বড়।

ফিটনেস রুটিন সম্পর্কে তিনি জানান, জিমে যাওয়ার সময় না পেলেও পার্কে হাঁটেন এবং বাসাতেই শরীরচর্চার ব্যবস্থা করে রেখেছেন। জেনেটিক কারণে তার ফিটনেস কিছুটা সহজ হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাইরের ভাজাপোড়া ও সফট ড্রিংকস এড়িয়ে চলেন। বিরিয়ানি তার পছন্দের খাবার; তবে রাতে খেলে পরদিন বেশি হাঁটার পরিকল্পনা করেন। রাতের খাবার সাতটার মধ্যে শেষ করে যতটা সম্ভব হাঁটেন তিনি।

মডেলিংয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন ডিজাইনিং কোর্সের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ‘এ-জেড’ নামে নিজস্ব ব্র্যান্ড চালু করেছেন আজিম। বিয়ের পরও কাজে কোনো সমস্যা হয়নি; স্ত্রীর সহযোগিতা সব সময় পান। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সারদের মধ্যে পার্থক্য মিশে যাওয়াকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেন এবং নতুন প্রতিভাদের সঙ্গে কাজ করতে আনন্দ পান। ব্রিটিশ মডেল ডেভিড গ্যান্ডি ও আলেকজান্ডার ম্যাককুইনের পোশাক তার প্রেরণার উৎস বলে জানান তিনি।