সঠিক সময়ে নেওয়া ছোট একটি বিনিয়োগ কীভাবে একজন সাধারণ মানুষকে কোটিপতিতে রূপ দিতে পারে, তার প্রাণবন্ত উদাহরণ হয়ে থাকবেন জেফরি স্প্রেচার। ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জের (আইসিই) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এই শিল্পোদ্যোক্তা মাত্র ১ হাজার ডলার বিনিয়োগ করে একটি প্রায় দেউলিয়া প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত করেছেন। সম্প্রতি আটলান্টার রোটারি ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য একটি এক্সচেঞ্জ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি, যদিও ওয়াল স্ট্রিটে তার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। ওয়ারেন বাফেটের মালিকানাধীন মিডআমেরিকান এনার্জির অধীনস্থ কন্টিনেন্টাল পাওয়ার এক্সচেঞ্জ দেউলিয়া হওয়ার পথে ছিল শুনে তিনি সুযোগটি লুফে নেন। ৩৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেও কোম্পানিটি টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল বাফেটের প্রতিষ্ঠান। স্প্রেচার সে সময় শেয়ারপ্রতি ১ ডলার দরে কোম্পানিটির ১ হাজার শেয়ার কিনে নেন। তিনি বলেন, ওই ১ হাজার ডলারের বিনিয়োগই ছিল আইসিই গড়ে তোলার ভিত্তি। দ্রুত সিদ্ধান্ত ও ব্যবসায়িক দক্ষতায় এখন তার নিজের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.২ বিলিয়ন ডলারে।

১৯৯৭ সালে করা সেই সামান্য বিনিয়োগের তিন বছর পর ২০০০ সালে মাত্র ৯ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। আটলান্টায় প্রতিষ্ঠার পর থেকে পুরো দলটি ব্যবসা গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করে। প্রতিষ্ঠাতা হয়েও স্প্রেচারকে তখন নিত্যনৈমিত্তিক অনেক কাজ করতে হতো। টাকার অভাবে তিনি মিডটাউনের একটি ছোট স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন এবং পুরোনো একটি গাড়ি চালাতেন। তিনি নিজেই আবর্জনা ফেলতেন, বাতি নেভাতেন, ফোন ধরতেন এবং অফিসের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেন। প্রায় ২৬ বছর পর আজ সেই প্রতিষ্ঠানের বাজার মূল্য ৮৫ বিলিয়ন ডলার এবং কর্মী সংখ্যা ১২ হাজারেরও বেশি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের (এনওয়াইএসই) মালিকানায় রয়েছে আইসিই।

শুধু স্প্রেচারই নন, সঠিক সময়ে ছোট বিনিয়োগ করে বিপুল সফলতা পাওয়ার আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। মার্কিন বিমান শিল্পের উদ্যোক্তা কেন রিক্কি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান কিনে কোটিপতি হয়েছেন। বিমান বাহিনী থেকে চাকরি শেষে প্রথম পাইলটের চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে বাবা-মার বাড়িতে ফিরে যেতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু হাল ছেড়ে না দিয়ে তিনি প্রফেশনাল ফ্লাইট ক্রুতে চুক্তিভিত্তিক কাজ নেন এবং কর্পোরেট উইংস নামের একটি কোম্পানির জন্য উড়তে শুরু করেন। ১৯৮১ সালে মাত্র ২৭ হাজার ৫০০ ডলারে কোম্পানিটি কিনে নেন তিনি। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানটি বার্ষিক ৩ মিলিয়ন ডলার আয় করতে শুরু করে।

অন্যদিকে, কোম্পানি কিনে বড় করার প্রয়োজন নেই, সম্ভাবনাময় স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেও সফল হওয়া যায়। তরুণ বিনিয়োগকারী মার্টিন মিনিয়টের বড় সাফল্যগুলোর একটি হলো ডেলিভারুতে প্রাথমিক বিনিয়োগ। লন্ডনের ছোট একটি প্রতিষ্ঠান থাকাকালীন সময়ে তিনি সেখানে বিনিয়োগ করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির তখন মাত্র ৮ জন কর্মী ও কয়েক হাজার ব্যবহারকারী ছিল। তাদের প্রথম ওয়েবসাইটটি ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের, তবে ডেলিভারির অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। পরে ডেলিভারু ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ইনডেক্স ভেঞ্চার্সের অংশীদার হিসেবে মিনিয়ট ফিগমা, স্কেল এআই ও উইজের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানেও বিনিয়োগ করেছেন। এছাড়া রেভল্যুট, ট্রেইনলাইন ও পারসোনিওর মতো ইউরোপীয় স্টার্টআপেও তার বিনিয়োগ রয়েছে। ৩০ বছর বয়সের আগেই তিনি একজন স্বীকৃত বিনিয়োগকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং অন্যদের পরামর্শ দিয়েছেন— ইকুইটি মালিকানাই সাফল্যের চাবিকাঠি।