শিক্ষার্থীরা যদি ক্লাসে হাতে নোট লেখে, তবে তা স্মৃতিতে বেশি দিন ধরে রাখা যায়— এমনটাই বলছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষক অড্রে ফন ডার মেয়ার ও রুড ফন ডার ওয়েল সম্প্রতি ৩৬ জন শিক্ষার্থীর ওপর একটি পরীক্ষা চালিয়েছেন। তাদের মাথায় ২৫৬টি সেন্সরযুক্ত একটি বিশেষ টুপি পরিয়ে পিকশনারি গেমের ১৫টি শব্দ হাতে ও কিবোর্ডে লিখতে দেওয়া হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, হাতে লেখার সময় শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্কের নড়াচড়া, দৃষ্টি ও স্মৃতি ধরে রাখার অংশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়। অন্যদিকে, টাইপ করার সময় মস্তিষ্কে তেমন কোনো সক্রিয়তা দেখা যায়নি। গবেষক অড্রে ফন ডার মেয়ার ব্যাখ্যা করেন, টাইপ করার সময় শিক্ষকের ভাষ্য সরাসরি কপি করে ফেললেও মস্তিষ্ক সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে না। কিন্তু হাতে লেখার বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের মন দিয়ে শুনতে হয় এবং নিজের ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো নির্বাচন করতে হয়, যা শেখার প্রক্রিয়াকে গভীর করে।

এছাড়াও, হাতে লেখার সময় প্রতিটি অক্ষরের জন্য হাত ও কবজির স্বতন্ত্র নড়াচড়া প্রয়োজন। গবেষকরা জানান, ট্যাব বা ফোনে টাইপ করে বেড়ে ওঠা শিশুরা ‘b’ ও ‘d’-এর মতো দেখতে অক্ষর গুলিয়ে ফেলে, কারণ তারা এর প্রকৃত আকৃতি পেশির সাহায্যে কখনো আলাদাভাবে অনুভব করেনি।

ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সোফিয়া ভিঞ্চি-বুহে বলেন, হাতে লেখার সময় চোখ ও হাতের সমন্বয়ে মস্তিষ্কে একটি স্থায়ী ছাপ তৈরি হয়। এটি কল্পনার ছবিকে বাস্তবায়িত করার মতো, যা স্মৃতিতে অটুট থাকে।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুর গবেষক যাদুর্শনা শিবশঙ্কর এখানে কগনিটিভ অফলোডিং নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, জিপিএস, রিমাইন্ডার বা স্লাইডের ছবি তোলার মতো কাজগুলো মস্তিষ্কের ওপর থেকে বোঝা কমালেও তা ক্রমাগত মস্তিষ্ককে অলস করে তোলে। ফলে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ দুর্বল হয়।

গবেষকরা মনে করেন, ল্যাপটপ বা ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে না। তবে হাতে লেখার মতো প্রাচীন পদ্ধতি বাদ দিলে আমাদের মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকার সুযোগ পায় না। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য হাতে লেখার অভ্যাস বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মতামত দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।