রক্ত সঞ্চালনের আগে গ্রুপ মিলিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আজ চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি সাধারণ নিয়ম হলেও, এই সত্যটি জানার পথ ছিল দীর্ঘ ও জটিল। মাত্র শত খানেক বছর আগেও মানুষের কাছে রক্তের কোনো শ্রেণীবিন্যাস ছিল না। এর ফলে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় ঘন ঘন জটিলতা দেখা দিত, অনেক সময় তা প্রাণঘাতীও হতো।

১৯০১ সালে অস্ট্রীয় রোগবিজ্ঞানী ও রোগপ্রতিরোধ বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার এই ধাঁধার সমাধান করেন। তিনি জন্মসূত্রে ভিয়েনার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন প্যাথোলজিস্ট ও ইমিউনোলজিস্ট ছিলেন। তাঁর নিবিড় গবেষণার ফলেই প্রথম বোঝা যায় যে মানবদেহের রক্ত মূলত কয়েকটি নির্দিষ্ট গ্রুপে বিভক্ত, আর এই গ্রুপগুলোর অসামঞ্জস্যই রক্ত সঞ্চালনকে বিপজ্জনক করে তোলে।

ল্যান্ডস্টাইনের আবিষ্কারের পর চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন কেন কোনো কোনো রক্ত সঞ্চালন সফল হয় এবং কেন অন্য ক্ষেত্রে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই জ্ঞান রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে নিরাপদ করে তোলে। সময়ের ব্যবধানে রক্তের গ্রুপ নির্ধারণের প্রযুক্তিও অনেক এগিয়েছে। বর্তমানে অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতির সাহায্যে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই যেকোনো ব্যক্তির রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করা সম্ভব। ফলে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ও সঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করে রোগীর জীবন রক্ষা করা যায়।

রক্ত দেওয়ার আগে দাতা ও গ্রহীতার গ্রুপ মিলিয়ে নেওয়া এখন একটি অপরিহার্য ধাপ, যা ল্যান্ডস্টাইনের গবেষণার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে। তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কার চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।