আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের (আইএমও) ৬৭তম আসরের প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। বুধবার চীনের সাংহাই হাইস্কুলে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে এই মূল্যায়ন চলে। এবারের আয়োজনে অংশ নিয়েছে বিশ্বের ১২০টি দেশের প্রতিনিধিরা। পরীক্ষায় প্রতিযোগীদের তিনটি মৌলিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়; এর মধ্যে একটি সংখ্যাতত্ত্ব, একটি জ্যামিতি এবং অপরটি সংযুক্তিবিদ্যা ও বীজগণিতের সমন্বয়ে গঠিত ছিল।

সাংহাই হাইস্কুল শুধু চীনের নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম মেধাবিকাশ কেন্দ্র। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ পর্যন্ত প্রায় ১৮টি স্বর্ণপদক জিতেছে আইএমওতে। এমন ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ী পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়াটা বাংলাদেশ দলের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিযোগীরা নিজেদের পরীক্ষা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং আগামীকাল দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষায় ভালো করার আশা ব্যক্ত করেছে।

বাংলাদেশের হয়ে অংশ নেওয়া ছয় শিক্ষার্থী হলেন ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির মনামী জামান, ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণির জাওয়াদ হামীম চৌধুরী, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী এম জামিউল হোসেন, চট্টগ্রাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মো. রায়হান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির মোহাম্মদ মারজুক রহমান ও ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের একাদশ শ্রেণির তাহসিন খান। তাদের সঙ্গে দলনেতা হিসেবে আছেন কোচ মাহবুবুল আলম মজুমদার, উপদলনেতা হিসেবে একাডেমিক সমন্বয়ক অপূর্ব কুমার এবং পর্যবেক্ষক হিসেবে সমন্বয়ক মো. বায়েজিদ ভূঁইয়া।

প্রথম দিনের পরীক্ষা চলাকালে অন্যান্য দেশের উপদলনেতা ও পর্যবেক্ষকদের জন্য ভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে—সেদিন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস—তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ঐতিহ্যবাহী ইউ গার্ডেনে। প্রায় পাঁচ একর জুড়ে বিস্তৃত এই উদ্যানে রয়েছে কৃত্রিম পাহাড়, পাথরের ভাস্কর্য, পুকুর, শতবর্ষী বৃক্ষ ও নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত বাগান। উদ্যানের অন্যতম পরিচিত অংশ জিগজ্যাগ সেতুটি পুকুরের ওপর আঁকাবাঁকাভাবে তৈরি, যার চারপাশে পদ্মফুল ও লাল রঙের প্যাভিলিয়ন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। ইউ গার্ডেন থেকে ফেরার পথে সাংহাইয়ের বিখ্যাত সুউচ্চ ভবনগুলোও দেখানো হয়। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই নগরীর সঙ্গে তরুণ গণিতবিদদের পরিচয় করিয়ে দিতেই এসব আয়োজন বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

বাংলাদেশ দলের এই অলিম্পিয়াড যাত্রা সম্ভব হয়েছে ডাচ্–বাংলা ব্যাংক পিএলসির পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনায়। দেশব্যাপী গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজনের মাধ্যমে এই দল নির্বাচন করা হয়েছে, যা পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ও শেষ দিনের পরীক্ষায় অংশ নেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।