শিশুদের আবেগগত ও মানসিক বিকাশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। ইইউর একটি উপদেষ্টা প্যানেল সুপারিশ করেছে, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্ল্যাটফর্ম নিরাপদ বলে প্রমাণ করতে না পারা পর্যন্ত ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা উচিত।

উরসুলা ভন ডার লেন, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট, এই সুপারিশের ভিত্তিতে শিশুদের জন্য বয়সসীমা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। গত সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'শৈশব কারও জন্য অপেক্ষা করে না। একবার তা চলে গেলে আর ফিরিয়ে আনা যায় না।' তিনি গাড়ি চালানো ও অ্যালকোহল সেবনের মতো প্রচলিত বয়সসীমার উদাহরণ টেনে বলেন, সমাজ যেসব কাজে পরিপক্বতা প্রয়োজন মনে করে, সেগুলোর জন্য নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ করে দেয়। একইভাবে শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বয়সসীমা থাকা উচিত। ভন ডার লেন 'অন্তহীন স্ক্রলিং'-এর মতো আসক্তিমূলক নকশার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বলেন, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এই বিষয়ে দ্রুত কাজ করতে হবে।

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে। টিকটক, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশাধিকার সীমিত করতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ চালু বা অনুমোদন করেছে এসব দেশ। ইন্দোনেশিয়া সম্প্রতি ৪৭ লাখ সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে বলেও জানা যায়।

ভন ডার লেন নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমার প্রস্তাব না দিলেও ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় কমিশন ইইউভুক্ত ২৭টি সদস্যদেশের বিবেচনার জন্য কিছু সুপারিশমালা তৈরি করবে। তাঁর নীতিগত উদ্যোগ প্রায়ই সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় প্রভাব ফেলে।

অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষা খতিয়ে দেখতে ইইউর একটি বিশেষ প্যানেল গঠিত হয়েছিল, যা গত সোমবার ভন ডার লেনের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা নিরাপদ কি না, তা প্রমাণ করার দায়িত্ব তাদেরই পালন করতে হবে—এ দায়িত্ব কোনো নিয়ামক সংস্থা, অভিভাবক বা শিশুদের ওপর বর্তায় না। যতক্ষণ না তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে, ততক্ষণ ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার সীমিত রাখা উচিত। এছাড়াও, প্যানেলটি ১৩ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতামূলক বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করতে সদস্যদেশগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে।