যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সেন্ট জুড চিলড্রেনস রিসার্চ হাসপাতালের নতুন প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে ড. চার্লস ডব্লিউ এম রবার্টস-কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেওয়া হয়। তিনি ড. জেমস আর ডাউনিং-এর স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি দীর্ঘ ১২ বছর এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে রবার্টস আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে, ডাউনিং হাসপাতালের গ্লোবাল পেডিয়াট্রিক মেডিসিন বিভাগের ফ্যাকাল্টি হিসেবে কাজ করবেন।

সেন্ট জুড হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ড্যানি থমাস ১৯৬২ সালে যখন মেমফিসে এটি স্থাপন করেন, তখন শিশুদের ক্যান্সারের বেঁচে থাকার হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ। বর্তমানে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ শতাংশের বেশি। ড. রবার্টস আশা প্রকাশ করেছেন যে, অদূর ভবিষ্যতে সমস্ত ধরণের শিশু ক্যান্সার সহজেই নিরাময় করা সম্ভব হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রতিষ্ঠানটি এখন সঠিক দিকে এগোচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা এখন একটি নতুন যুগের শুরুতে দাঁড়িয়ে আছি। আগামী কয়েক বছরে আমরা ড্যানি থমাসের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের এক অনন্য সুযোগ পাব, যা আগে কখনও সম্ভব হয়নি।

রবার্টস মনে করেন, বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে এমন কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি হচ্ছে যা আরও কার্যকরভাবে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে পারে এবং রোগীর শরীরের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনে। শুধু ক্যান্সার নয়, শিশুদের অন্যান্য মারাত্মক রোগ নিরাময়েও এই প্রযুক্তি সাহায্য করছে। সেন্ট জুড বোর্ড অফ গভর্নরস-এর চেয়ারপারসন জুডি হাবিব জানান, নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কারের প্রতি রবার্টসের বিশেষ আগ্রহ এবং গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা তাকে এই পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে। তার গবেষকের দক্ষতা, চিকিৎসকের যত্ন এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যের প্রতি একাগ্রতাকে বোর্ড অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে।

সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি ড. রবার্টস তার গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। বিশেষ করে টিউমারের বৃদ্ধি রোধকারী জিন নিয়ে তার কাজ অব্যাহত থাকবে। তিনি বিশ্বাস করেন, গবেষণার সাথে যুক্ত থাকলে তিনি এই খাতের সর্বশেষ আপডেট এবং সম্ভাবনাগুলো সম্পর্কে অবগত থাকতে পারবেন, যা প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকার নির্ধারণে সহায়ক হবে।

সেন্ট জুডের বর্তমান আর্থিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে রবার্টস জানান, প্রাপ্ত অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা থাকলেও রোগীদের বা তাদের পরিবারের কাছ থেকে চিকিৎসার কোনো অর্থ নেওয়া হবে না—এই নীতি অপরিবর্তিত থাকবে। সাধারণত ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যান্সারের গবেষণায় বেশি বিনিয়োগ করে এবং সরকারি গবেষণার ফান্ডও অনেক সময় সংকুচিত হয়। তবে হাসপাতালের তহবিল সংগ্রহকারী সংস্থা ALSAC-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত অনুদানের সাহায্যে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ALSAC গড়ে বছরে ২.৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে ইউনাইটেড ওয়ে-র পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

প্রতিষ্ঠাতার কন্যা এবং ন্যাশনাল আউটরিচ ডিরেক্টর মার্লো থমাস জানান, ড. রবার্টসের গত এক দশকের অবদানের কারণে তার বাবার স্বপ্ন—কোনো শিশু যেন শৈশবেই মৃত্যুবরণ না করে—তা এখন পূর্ণ হওয়ার খুব কাছাকাছি। অন্যদিকে, ALSAC-এর সিইও আইক আনান্দ ড. রবার্টসের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টির কথা বলেছেন।