বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প জনসমক্ষে অনুপস্থিত রয়েছেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়কালে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে তাঁর স্বামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে দেখা যায়নি। ২৮ জুলাই রিপাবলিকান নেতা ও মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এর মাত্র চার দিন আগে অনুষ্ঠিত হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনারেও মেলানিয়ার অনুপস্থিতি লক্ষণীয় ছিল। ২২ জুলাই যখন প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে নিহত চারজন মার্কিন সেনাসদস্যের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন, তখনো ফার্স্ট লেডিকে দেখা যায়নি। গত জুলাই মাসে তুরস্কে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন শেষে গোপনে একটি সামরিক উড়োজাহাজে চেপে আঙ্কারা ছেড়েছিলেন ট্রাম্প; ওই সফরেও মেলানিয়ার উপস্থিতি ছিল না।
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন বলছে, মেলানিয়া ট্রাম্পকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল গত ১৯ জুলাই। সেদিন তিনি স্বামীর পাশে বসে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা উপভোগ করেছিলেন। অর্থাৎ প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি প্রকাশ্যে আসেননি। এর আগে গত ১৪ জুন হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ইউএফসি ফ্রিডম–২৫০ অনুষ্ঠানে মেলানিয়াকে দেখা গেছে। আরও আগে, ১৩ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনীর সদস্য একটি বিশেষ দলকে সম্মাননা জানানোর অনুষ্ঠানে তিনি স্বামী ট্রাম্পের পাশে ছিলেন। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় কমান্ডো অভিযান চালিয়ে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার অভিযানে সেনাসদস্যদের ওই বিশেষ দলটি অংশগ্রহণ করেছিল; সেই দলকে সম্মাননা জানানোর অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।
নিউজউইকের করা ছবিভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৪টি অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে দেখা গেছে। দ্য ডেইলি বিস্টের হিসাব মতে, এ বছর মেলানিয়া ট্রাম্প ৩৮ দিন জনসমক্ষে উপস্থিত হয়েছেন; অর্থাৎ গড়ে প্রায় প্রতি ছয় দিনে একবার তাঁকে দেখা গেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ফার্স্ট লেডি হিসেবে প্রথম মেয়াদে মেলানিয়াকে এর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। ফার্স্ট লেডির একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, মেলানিয়া ট্রাম্প ‘জনসমক্ষে উপস্থিত হওয়ার চেয়ে কাজের ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেন।’ এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইনডিপেনডেন্ট থেকে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফার্স্ট লেডি বর্তমানে বেশির ভাগ সময় ফ্লোরিডা ও নিউইয়র্কে কাটান বলে জানা গেছে। নিউইয়র্কেই তাঁর ছেলে ব্যারন ট্রাম্প কলেজে পড়াশোনা করছেন। এর আগেও মেলানিয়া দীর্ঘ সময়ের জন্য জনসমক্ষে অনুপস্থিত থেকেছেন। নিউজউইকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রায় এক মাস মেলানিয়া ট্রাম্প জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন।
মেলানিয়া ট্রাম্প যখন দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না, ঠিক সেই সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগী নাটালি হার্পকে তাঁর পাশে প্রায় সব সময়ই দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে গুঞ্জনও হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের মতে, ট্রাম্প হার্পকে তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন মনে করেন এবং বিশ্বাস করেন যে হার্প কখনো তাঁকে ছেড়ে যাবেন না।
গত জুলাই মাসে তুরস্কে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন শেষে গোপনে একটি সামরিক উড়োজাহাজে চেপে আঙ্কারা ছেড়েছিলেন ট্রাম্প। কর্মকর্তাদের ছোট যে দলটি সামরিক উড়োজাহাজে ট্রাম্পের সঙ্গী হয়েছিল, তাদের মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী নাটালি হার্পও ছিলেন। অথচ এয়ারফোর্স ওয়ানে করে তুরস্কে যাওয়া ট্রাম্পের সফর সঙ্গীদের বেশির ভাগই সেদিন জানতেন না যে, ইরানের হামলার আশঙ্কায় ট্রাম্প উড়োজাহাজ পরিবর্তন করছেন। সফরসঙ্গী বেশির ভাগ কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকেরা এয়ারফোর্স ওয়ানে করেই আঙ্কারা ছেড়েছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় সহায়তা করেন হার্প। তিনি ১১ ও ১৬ আগস্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করেছেন। ২২ জুলাই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের অনুষ্ঠানে হার্প প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরেও হার্প তাঁর সঙ্গে ছিলেন; মেলানিয়া ওই সফরে যাননি। মেরিন ওয়ান থেকে নেমে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নাটালি হার্প—১৬ আগস্ট, ২০২৬ তারিখের এমন একটি ছবিও প্রকাশিত হয়েছে।
হার্পও ট্রাম্পকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন নোট লিখে সেগুলো প্রেসিডেন্টের ‘ব্যক্তিগত বিভিন্ন জায়গায়’ রেখে দেন। এমন একটি নোটে লেখা ছিল, ‘আপনিই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ হার্পের এক ভাই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর বোনের সম্পর্ককে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন। ওই ভাইয়ের সঙ্গে হার্পের যোগাযোগ নেই।
সিএনএনের নারী সাংবাদিকের প্রশ্নে কেন এতটা চটলেন ট্রাম্প—এমন প্রসঙ্গের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও একটি বক্তব্য এসেছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র দ্য ইনডিপেনডেন্টকে বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর কর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যতটা আনুগত্য অর্জন করেছেন, তেমনটা আর কোনো প্রেসিডেন্টই অর্জন করতে পারেননি; এটি আমাদের দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।’ ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘নাটালি হার্প হোয়াইট হাউসের একজন অত্যন্ত প্রিয় কর্মকর্তা। আর ভুয়া খবর ছড়ানো সংবাদমাধ্যমের লোকেরা কখনোই বুঝতে পারবেন না, তাঁর মতো এতটা বিশ্বস্ত ও প্রশংসিত হওয়ার অনুভূতি কেমন।’




