সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক সমাবেশে যোগদানে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এই আদেশ প্রদান করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে বাধা সৃষ্টি করে সমাবেশে অংশগ্রহণ ঠেকাতে চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযোগ করা হয়েছে যে, সৈয়দ জগলুল পাশাসহ ১১১ জন এজাহারভুক্ত আসামি এবং প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে অবস্থান করেন। তারা সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটান এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের মারধর করেন। রাস্তার ওপর বালুভর্তি ট্রাক এবং অন্যান্য যানবাহন দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম চালানো হয় যাতে খালেদা জিয়া 'মার্চ ফর ডেমোক্রেসি' সমাবেশে যোগ দিতে না পারেন। আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২৯ ডিসেম্বর সকালে যখন খালেদা জিয়া তাঁর সহযোগীদের নিয়ে রওনা হন, তখন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ পিপার স্প্রে ব্যবহার করা হয়, যার ফলে তিনি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীরা আহত হন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর মোট ১১১ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়েছিল, যেখানে সৈয়দ জগলুল পাশা ১৭ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন।
গত ৪ আগস্ট দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বসুন্ধরার বাসা থেকে ডিবি পুলিশ জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন তাঁর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে আদালত ৬ আগস্ট সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সাত দিনের রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে পুনরায় আটক রাখার আবেদন জানালে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে এই মামলায় মোট চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।



