মহাবিশ্বের অজানা রহস্যের সন্ধানে মানুষের কৌতূহল যেন থামছেই না। সৃষ্টির শুরু থেকে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা মহাকাশ নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন। এবার বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে মানবিক অনুভূতির এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটাল নাসা। মহাকাশে মানবসভ্যতার স্মারক হিসেবে লাখ লাখ মানুষের নাম পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।
নাসার তৈরি নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপের মেমোরি কার্ডে জমা রাখা হয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ১৪৪ জন মানুষের নাম। শুধু সাধারণ মহাকাশপ্রেমীদের নামই নয়, এই তালিকায় স্থান পেয়েছে আর্টেমিস ২ ও আর্টেমিস ৩ চন্দ্র অভিযানের নভোচারীদের নামও। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জমা পড়া এসব নাম নিয়ে টেলিস্কোপটি পাঠানো হবে মহাকাশের গভীরে।
আগামী ৩০ আগস্ট ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্স ফ্যালকন হেভি রকেটের মাধ্যমে টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপণ করা হবে। পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করবে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। মহাবিশ্বে মানবতার ছাপ রাখার যে ঐতিহ্য আমরা বহন করি, এই উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা।
নতুন এই টেলিস্কোপে বসানো হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী ক্যামেরা। বিখ্যাত হাবল টেলিস্কোপের তুলনায় এটি ১০০ গুণ বড় পরিসরে ছবি তুলতে সক্ষম। ফলে টেলিস্কোপটি ব্যবহার করে হাজার হাজার দূরবর্তী গ্রহের সন্ধান মিলতে পারে, পাশাপাশি কোটি কোটি গ্যালাক্সির মানচিত্র তৈরি করাও সম্ভব হবে।
মহাকাশ গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামেই এই টেলিস্কোপের নামকরণ করা হয়েছে। তিনি ছিলেন নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তাঁকে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের জনক হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাধা এড়িয়ে নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের জন্য মহাকাশে টেলিস্কোপ স্থাপনের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি।




