ক্রিপ্টোকারেন্সি স্টোরেজ ডিভাইস নির্মাতা কোল্ডকার্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের ত্রুটি ধরা পড়েছে। এই ত্রুটির কারণে হ্যাকাররা কমপক্ষে ১০ কোটি ডলারের বেশি বিটকয়েন চুরি করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে। সাধারণত, কোল্ডকার্ডের মতো হার্ডওয়্যার ওয়ালেটগুলো অফলাইনে ক্রিপ্টোকারেন্সি সংরক্ষণ করে বলে এগুলোকে প্রায় অনতিক্রম্য নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ব্যবহারকারীরা ছাড়া আর কেউ সিড ফ্রেজ না জানায় এই ওয়ালেটগুলোকে হ্যাক করা প্রায় অসম্ভব বলেই ধারণা ছিল।
তবে এবারের ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রতিষ্ঠানটি সিড ফ্রেজ তৈরির প্রক্রিয়ায় এলোমেলো (র্যান্ডম) পদ্ধতি ব্যবহার করেনি। পরিবর্তে, একটি পূর্বনির্ধারিত ও অনুমানযোগ্য প্যাটার্ন অনুসরণ করা হয়েছে। ফলে, একটি নমুনা সিড ফ্রেজের সাহায্যে হ্যাকাররা ট্রায়াল-এন্ড-এরর পদ্ধতিতে অন্যান্য ওয়ালেটের সিড ফ্রেজ অনুমান করে সেগুলো খালি করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন বিটকয়েন ব্যবহারকারীরা যারা সব নিয়ম মেনে চলছিলেন, তারাও এ ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন।
হ্যাকিংয়ের এই ঘটনাটি কতটা গুরুতর, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একটি দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, লেজার বা ট্রেজরের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের তুলনায় কোল্ডকার্ড বাজারের ২ শতাংশেরও কম অংশ জুড়ে রয়েছে। তাই এই হ্যাকিংয়ের কারণে বিটকয়েনের সামগ্রিক বাজার দরে কোনো প্রভাব পড়েনি। অন্যদিকে, প্রতীকী অর্থে এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বেশিরভাগ হ্যাকিং ঘটনা ঘটে অসুরক্ষিত প্রযুক্তি বা ঝুঁকিপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কারণে। কিন্তু এবারের শিকার হয়েছেন প্রযুক্তি বুঝে যারা ঠান্ডা মাথায় (কোল্ড স্টোরেজে) নিজেদের বিটকয়েন রেখেছিলেন।
এই ঘটনাকে অনেকেই কোল্ডকার্ডের প্রতি আস্থার সংকট হিসেবে দেখছেন। তবে এই প্রতিক্রিয়া কিছুটা অতিরঞ্জিত বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কোল্ডকার্ড হ্যাক হওয়ার অর্থ এই নয় যে বিটকয়েন প্রযুক্তি ব্যর্থ হয়েছে; বরং একজন নির্মাতার অবহেলার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। ঘটনাটি একটি অস্বস্তিকর সত্যকে সামনে এনেছে যে, অফলাইন হার্ডওয়্যার ওয়ালেটে বিটকয়েন রাখা নিরাপদ হলেও এটি বেশ ঝামেলাপূর্ণও বটে। অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন, স্বনির্ভরতা ভালো, তবে নামকরা এক্সচেঞ্জে অল্প পরিমাণ বিটকয়েন রাখা অনেক সহজ ও ব্যবহারিক। ভবিষ্যতে যদি অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে, তবেই সম্ভবত তারা হার্ডওয়্যার ওয়ালেট ব্যবহারের কথা ভাববেন — তবে তার আগে ডিভাইস নির্মাতার মান যাচাই করে নেওয়া জরুরি।




