তিনটি রাজ্যের বিধানসভার তিনটি কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল বিজেপির জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার ফলাফলের প্রাথমিক প্রবণতায় দেখা গেছে, যে আসনটি কখনো হাতছাড়া হয়নি, সেই বিহারের বাঁকিপুরে দলটি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। দলটির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন কর্তৃক পরিত্যাক্ত আসনটিতে তাদের মনোনীত নীরজ কুমার সিনহা পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। ভোটকুশলী হিসেবে খ্যাত জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর, যিনি ‘পিকে’ নামে সুপরিচিত, প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েই উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। সোমবার বিকেল চারটার প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, পিকের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থীর চেয়ে ১৫ হাজার ভোটে অগ্রগণ্য ছিলেন। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল আরজেডির প্রার্থী রেখা কুমারী মাত্র ১১ হাজার ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে ছিলেন।

অন্য একটি ধাক্কা আসে মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসন থেকে। এটি কংগ্রেসের দখলে থাকা সত্ত্বেও বিজেপি নেতৃত্ব তা দখলের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় পছন্দের প্রার্থী ক্রমশ কংগ্রেসের প্রার্থী ঘনশ্যাম সিংয়ের থেকে পিছিয়ে যেতে থাকেন। ওই সময়ের হিসাব অনুযায়ী, কংগ্রেস প্রার্থী ৯ হাজার টিতে এগিয়ে ছিলেন। গুজরাটের মঞ্জলপুর আসনে বিজেপি তার হারানো মর্যাদা কিছুটা ধরে রাখতে সক্ষম হয়, তবে এখানেও জয়ের ব্যবধানে বড় রকমের সংকোচন দেখা গেছে। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক লাখেরও বেশি ভোটে জেতা আসলটিতে এবার এগিয়ে থাকার ব্যবধান দাঁড়িয়েছিল মাত্র ২৭ হাজারে।

সাম্প্রতিক ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের প্রতিফলন এই উপনির্বাচনের ফলাফলে কতটা পড়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কৌতূহল ছিল। ফলপ্রকাশের পর ধারণা করা হচ্ছে, বিজেপির উচ্চবর্ণের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংকেও ফাটল ধরেছে। বিশেষ করে বিহারে জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা যে বিজেপির প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রশ্ন কিশোরকে বেছে নিয়েছে, তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের নেতৃত্বের প্রতি এটি একটি অস্বস্তিকর রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ডেরেক ও’ব্রায়ান এটিকে ‘শেষের শুরু’ বলেও অভিহিত করেছেন।