মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে সোমবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) একটি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের কথা জানিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার। ৮১ বছর বয়সী এই নোবেলবিজয়ীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়ার মাঝেই এমন ঘোষণা দিল নেপিডো।
সরকারের মুখপাত্র খাইন খাইন সোয়ে টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানান, মিয়ানমারে নিযুক্ত আইসিআরসির আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দ্য বেকের সাথে রাজধানী নেপিডোতে সু চির এই বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। দ্য ইনডিপেনডেন্ট এই বিষয়ে রেড ক্রসের মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে অং সান সু চিকে আটক করে মিয়ানমারের সেনাশক্তি। এরপর থেকে তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে এবং তাঁর স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রায় অপ্রাপ্যই ছিল। কোনো বিদেশি কূটনীতিক বা নেতাও প্রকাশ্যে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেননি।
গত এপ্রিলে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার জানায়, সু চিকে গোপন কারাগার থেকে স্থানান্তর করে গৃহবন্দী রাখা হয়েছে। এরপর ৩০ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশিত হয়, যাতে সু চিকে একটি কাঠের বেঞ্চে বসে ইউনিফর্মধারী দুই ব্যক্তির সাথে কথা বলতে দেখা যায়। তবে ছবিটির সত্যতা নিয়ে দ্রুতই সন্দেহ দেখা দেয়।
এরই প্রেক্ষিতে সু চির ছেলে কিম অ্যারিস ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি লেখেন, অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর মায়ের জীবিত থাকার কোনো বিশ্বাসযোগ্য ও স্বনির্ভরভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি, 'আমার ৮১ বছর বয়সী মাকে এক গোপন স্থান থেকে অপর গোপন স্থানে সরানোকে স্বাধীনতা বলে না, তিনি এখনো জিম্মি।' অ্যারিস জোর দিয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষকে সু চির জীবনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।
একই সাথে, সম্প্রতি মিন অং হ্লাইংকে ভারতের দেয়া উষ্ণ ও আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার সমালোচনা করে কিম অ্যারিস হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতকে মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং নিজের মায়ের মুক্তির দাবিতে প্রচারপাবেন।
অন্যদিকে, যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যেই সু চির ৩৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতেই দুটি সাধারণ ক্ষমা কার্যক্রমের ফলে সেই সাজা কমিয়ে ১৮ বছর করা হয় এবং তাঁকে নির্জন কারাবাস থেকে গৃহবন্দীতে স্থানান্তর করা হয়।




