পুষ্টিবিজ্ঞান ও খাদ্যাভ্যাসের জগতে দই একটি বহুল পরিচিত ও উপকারী খাবার হিসেবে স্বীকৃত। দুধকে গাঁজিয়ে বা ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দই তৈরি হয়, যেখানে বিশেষ একধরনের অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া কাজ করে। এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া অণুজীবগুলো মানবশরীরের জন্য কল্যাণকর হয়ে থাকে। পরিপাক প্রক্রিয়ায় এরা দ্রুত সম্প্রসারিত হয় এবং অন্ত্রে উপস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে। তবে একটি জরুরি প্রশ্ন থেকেই যায়, তা হলো—প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত পরিমাণ দই অন্তর্ভুক্ত করা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত? এই বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।

একটি সাধারণ বিচার-বিবেচনার সূত্র হলো, অতিরিক্ত মাত্রায় যেকোনো কিছু গ্রহণই স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। দইয়ের ক্ষেত্রেও এই মাপকাঠি প্রযোজ্য। পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ, কেননা অপরিমিত গ্রহণে অনেক সময় প্রত্যাশিত স্বাস্থ্য উপকারের বদলে হানিকর পরিণতি দেখা দিতে পারে। দই পরিমিতভাবে পাকস্থলীর জন্য বন্ধুস্বরূপ, এতে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু দই প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়াগুলোও তো ক্ষুদ্র অণুজীব—ফলে এগুলোর কোনো দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আছে কিনা, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুসন্ধিৎসু বিষয়।

গাঁজনের জন্য সাধারণত দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়ার ওপর নির্ভর করা হয়—স্ট্রেপটোকক্কাস থার্মোফিলাস এবং ল্যাকটো ব্যাসিলাস বুলগেরিকাস। বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা নির্দেশ করছে যে, এই দুই প্রজাতির অণুজীবই মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এরা পাচনতন্ত্রে কোনো ধরনের আঘাত বা ক্ষতি সাধন করে না। তা সত্ত্বেও একটি রহস্যময় দিক রয়েই গেছে, তা হলো পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রের উচ্চ অম্লীয় পরিবেশে দইয়ের এসব জীবাণু টিকে থাকতে সক্ষম কিনা। এই বিষয়টি এখনও গবেষণামূলক তদন্তের আওতাধীন।

তা সত্ত্বেও, এটি প্রামাণিত সত্য যে দইয়ের মধ্যে বিদ্যমান সক্রিয় অণুজীবগুলি শারীরিক সুস্থতার জন্য হিতকর। অনেকের জন্যই দুধভিত্তিক খাদ্য পরিহারযোগ্য হয়ে ওঠে বিশেষ কিছু শারীরবৃত্তীয় কারণে। শেষাবধি, দই খাওয়ার অভ্যাসটি ঠিক পরিমাপ মেনেই পরিচালনা করা উচিত। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত গ্রহণ করলে উপকারের সম্ভাবনা যতটা না থাকে, তার চেয়ে দেহে বিতৃষ্ণা বা জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা বেশি বলেই ধরে নেওয়া হয়।