সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় তার পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদামের সামনের প্রধান সড়কে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’–এর উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তার সংসদীয় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহের মতো কর্মসূচি চলছে।
গত ২০ জুলাই রাতে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। তবে পরদিন নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণীটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। এই ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।
আজকের অবস্থান কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ অংশ নেন। প্রধান সড়কের উভয় পাশে অবস্থান নিয়ে তারা নানা স্লোগান দেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগের দাবি জানান। এতে শ্যামনগর–মুন্সিগঞ্জ সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মজিদ, ইদ্রিস হাজী, গাজী শাহ আলম, ছাবিনা খাতুন, মমতাজ বেগম ও এবাদুল ইসলাম প্রমুখ। আবদুল মজিদ বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত আচরণ ও নৈতিক অবস্থান সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা যাওয়ায় জনমনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে করেন, বিষয়টির নৈতিক দায় স্বীকার করে সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।
অপর বক্তারা বলেন, জনগণের আস্থা ও জনপ্রতিনিধিত্বের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দাবি পূরণ না হলে শুধু শ্যামনগর নয়, পুরো সাতক্ষীরা অচল করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি গাজী নজরুল ইসলামের বাসভবন ঘেরাও করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে শ্যামনগরে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং তিনি পদত্যাগ না করলে তাকে শ্যামনগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।




