নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে জেটির সামনে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে নিখোঁজ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিকের মরদেহ প্রায় আট ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের আরেক ডুবুরি মেরাজ আলী নদী থেকে তাঁর মরদেহ বের করে আনেন। সাদিক (২৬) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কুমরাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয় থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাদিক ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর সাহসী কার্যক্রমের জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় পদকও পেয়েছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে আজ বেলা ১১টার দিকে। নিতাইগঞ্জ ফায়ার ঘাটে ফায়ার সার্ভিসের জেটির সামনে কচুরিপানা অপসারণের কাজ করছিলেন তিন সদস্যের একটি দল। এ সময় স্পিডবোটের সামনের অংশে দাঁড়ানো সাদিক হঠাৎ ঢেউয়ের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যান। তাঁর সহকর্মীদের ধারণা, পড়ার সময় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন, যার কারণে তিনি ভেসে উঠতে পারেননি। প্রশিক্ষিত ডুবুরি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি অস্বাভাবিক মনে হয়েছে সহকর্মীদের কাছে।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল এবং নৌ পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ তল্লাশির পর সন্ধ্যায় নিতাইগঞ্জ থেকে কিছু দূরে নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহিদ কামাল। তিনি নিখোঁজ সদস্যের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং উদ্ধার অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেন।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সাদিকের অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




