বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত দোয়া ও ফাতেহা পাঠ কর্মসূচিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বজনরা হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের বিভীষিকাময় স্মৃতি সংরক্ষণ করতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

ইনকিলাব মঞ্চের সহমুখপাত্র ফাতেমা তাসনিম উল্লেখ করেন, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও জুলাইয়ে শহীদদের পরিবারের প্রধান দাবি—হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে লাভবান হলেও অধিকাংশ শহীদ পরিবার এখনো কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। তিনি শহীদদের কবর সংস্কার এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আজ যারা ক্ষমতায় রয়েছেন, তারা জুলাইয়ের কারণেই সে অবস্থানে এসেছেন। সুতরাং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করাটা তাদের দায়িত্ব।’ তিনি আরও জানান, আন্দোলনে আহত অনেকেই স্থায়ী পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জুলাইয়ের শহীদ মোহাম্মদ সোহেল রানার ছোট ভাই মোহাম্মদ নাবিল হোসেন তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানান, বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের জন্য দেড় বছর অপেক্ষার পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই তাঁর ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তিনি অভিযোগ করেন, নিহতদের পরিবার এখনো বিচার ও স্বীকৃতির জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছে, কিন্তু অনেক শহীদের কবরও এখনো সংস্কার করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভাইদের হত্যার বিচার যদি নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে স্পষ্ট করে বলুন। আমরা আল্লাহর কাছেই বিচার চাইব।’

ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফজলে রাব্বি সরকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করা যাবে। তিনি শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।