ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে টানা তৃতীয় দিনের মতো তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই যানজট বৃহস্পতিবারও অব্যাহত রয়েছে, ফলে সাধারণ যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্তও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শান্তিনগর থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় ও কুট্টাপাড়া হয়ে বারিউড়া পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন আটকে আছে। অন্যদিকে বিশ্বরোড মোড় থেকে দক্ষিণে নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরী এলাকা পর্যন্ত কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশেও একই অবস্থা। সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের আরও এক কিলোমিটার অংশে যানজট ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নির্মাণশ্রমিক সরদার জয়নাল মিয়া (৫০) জানান, তিনি প্রতিদিন পাওয়ার টিলারে করে নাসিরনগরে নির্মাণশ্রমিক নিয়ে যান। আগে ২০-২২ জন শ্রমিক নিয়ে যেতে পারলেও যানজটের কারণে এখন মাত্র ১৬ জন নিয়ে যেতে পারছেন। তিনি বলেন, 'বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সুহিলপুর থেকে সরাইল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার পথ সড়কে আটকা থাকতে হয়। সকালে গড়ে এক থেকে দেড় ঘণ্টা এবং বিকেলে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা আটকা পড়ি। সরকার চাইলেই এক থেকে দুই মাসে এই যানজটের সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু আট বছরেও দুর্ভোগ শেষ হয়নি। আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।' জয়নাল মিয়ার দৈনিক আয়ও কমে গেছে বলে তিনি জানান।
যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে সরু সড়ক ও নির্মাণকাজকে চিহ্নিত করেছেন হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা। সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জুয়েল আহমেদ বলেন, 'সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সরু রাস্তা। দ্বিতীয়ত, সড়কে কার আগে কে যাবে, সেই প্রতিযোগিতা। চালকদের কেউই আমাদের সংকেত মানছেন না, আইনও মানছেন না।' সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান জানান, সরু সড়ক, গর্ত ও আইন না মানার প্রবণতার কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, 'দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে আমরা দায়িত্ব পালন করছি। ধুলো আর রোদে কাজ করতে গিয়ে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারপরও আমরা যানজট কমাতে চেষ্টা করে যাচ্ছি।'
সরাইল বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরের চারদিকের মধ্যে শুধু ঢাকা থেকে সিলেটগামী অংশের একটি নতুন লেন খোলা রাখা হয়েছে। সিলেট থেকে ঢাকা ও কুমিল্লাগামী পুরোনো দুটি লেন বন্ধ থাকায় যানবাহনের চাপ একটি পথেই পড়ছে। গোলচত্বরের তিন পাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিনটি অবৈধ স্ট্যান্ডও যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া সড়কে ইজিবাইকের অবাধ বিচরণও সমস্যা বাড়াচ্ছে। ঢাকাগামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক্সপ্রেস বাসের চালক মোশারফ হোসেন জানান, বিশ্বরোড মোড়ে বড় বড় গর্তের কারণে অল্প রাস্তা পার হতে আধা ঘণ্টা সময় লাগছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যানজট নিরসনে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে চালকদের আইন না মানা এবং সড়কের অবকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। স্থানীয়রা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




