কর্মঘণ্টার চাপে একসময় জীবনের মূল্যবান সময় হারিয়েছেন ইউএস পোলো অ্যাসনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জে. মাইকেল প্রিন্স। এখন তিনি একটি সুস্পষ্ট সীমানা টেনে দিয়েছেন: সপ্তাহান্তে সহকর্মীদের কোনো বার্তা পাঠাবেন না। ফরচুন ম্যাগাজিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “আমি একটি বিষয় সম্মান করার চেষ্টা করি—আর তা হলো, সন্ধ্যার পর মানুষকে বিরক্ত না করা। অফিস ছুটির পর খুব কমই কখনো আমার কাছ থেকে ইমেইল বা বার্তা পাবেন।” তবে তার কর্মজীবনের শুরুতে এমনটি কখনো ঘটেনি।
২.৭ বিলিয়ন ডলারের একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের দায়িত্বে থাকা এই নির্বাহী বর্তমানে ১৯০টি দেশের ১,২০০ স্টোরের কার্যক্রম তদারকি করেন, এমনকি উইন্ডসর ক্যাসেলে প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে চ্যারিটি পোলো ইভেন্টেও অংশ নেন। তারপরও তিনি অফিস ত্যাগ করেন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায়। জরুরি অবস্থা না ঘটলে তার দলের কেউ অফিস-পরবর্তী সময়ে তার বার্তা পায় না। দীর্ঘ সাপ্তাহিক ছুটিতে তিনি শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সবার ছুটি নিশ্চিত করেন এবং নিজেও যোগাযোগ থেকে দূরে থাকেন।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, “আমি অফিস ত্যাগ করি এবং মানুষের সপ্তাহান্তকে সত্যিই সম্মান করার চেষ্টা করি, কারণ আমি মনে করি ওই সময়টা আপনার পরিবারের জন্য, ব্যক্তিগত জীবনের জন্য, বন্ধুত্বের জন্য এবং আধ্যাত্মিক, মানসিক, শারীরিক ও আবেগিকভাবে নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য।” খুচরা ব্যবসা ও সপ্তাহান্তের ক্রীড়া ইভেন্ট—উভয় ক্ষেত্রেই বিস্তৃত একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারীর জন্য এটি এক বিরল দৃষ্টান্ত।
শীর্ষে পৌঁছাতে তিনি একসময় সপ্তাহে ৯০ ঘণ্টা কাজ করেছেন এবং রাত জেগেছেন। প্রিন্স স্মরণ করেন, “শুরুর দিকে কিছু ‘ভালো অভ্যাস’-এর কারণে সম্ভবত আমি জীবনের কিছু বছর হারিয়েছি, যেগুলোকে খারাপ অভ্যাসও বলা যায়।” এখন পঞ্চাশোর্ধ্ব এই সিইওর উপলব্ধি, ক্যারিয়ার সাধারণত বিশ বছর বয়স থেকে ষাটের শেষ পর্যন্ত চলে। প্রতিদিন দুপুরের খাবার বাদ দেওয়া, গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করা এবং মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমিয়ে চলা কয়েক দশক ধরে টেকসই নয়। উচ্চাকাঙ্ক্ষী পেশাজীবীদের প্রতি তার পরামর্শ, “কঠোর পরিশ্রম করো, কিন্তু নিজের যত্নও নাও। এটি একটি ম্যারাথন, স্প্রিন্ট নয়।”
ভোর পাঁচটা পনেরো মিনিটে ঘুম থেকে ওঠেন প্রিন্স। “চারটার ঘুম আমার পছন্দ নয়, তবে পাঁচটা পছন্দ,” মজা করে বলেন তিনি। এক ঘণ্টা ব্যায়াম, এক কাপ কফি, ইমেইল পরীক্ষা এবং পরিবারের সঙ্গে সকালের নাশতা—এই রুটিন তিনি সবসময় বজায় রাখেন। তাড়াহুড়ো না করে স্ত্রীর সঙ্গে পালাক্রমে সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে যানজট এড়াতে কিছুটা দেরিতে অফিসে যান। অফিসে পৌঁছানোর পর শুরু হয় ক্রীড়া অংশীদার, আন্তর্জাতিক লাইসেন্সধারীদের কল ও দলীয় সভা। সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি বাসায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন। দিন শেষে একটি শেষবার বার্তা দেখার পর তিনি পুরোপুরি কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান, তবে জরুরি প্রয়োজনে তার দল দিনে বা রাতে যেকোনো সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।
শীর্ষ নির্বাহীদের মধ্যে এমন সীমানা নির্ধারণের উদাহরণ আরও আছে। নেটফ্লিক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক র্যান্ডলফ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতি মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় কঠোরভাবে কাজ বন্ধ রেখেছিলেন, যা তাকে ‘সুস্থ’ থাকতে সহায়তা করেছে। কোনো সংকটও এই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। হোল ফুডসের সিইও জেসন বুয়েশেল দিনে দুইবার ব্যায়াম করেন এবং সব ছুটি পুরোপুরি ব্যবহার করেন। জেপিমর্গানের জেমি ডিমনও তার পুরো ছুটি ভোগ করেন এবং কর্মীদের কর্ম-জীবনের ভারসাম্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘স্মার্ট’ উপায়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। জর্জটাউনের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, “তোমার মন, শরীর, আত্মা, বন্ধু, পরিবার ও স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে।”




