দক্ষিণ এশিয়ায় চাল বাণিজ্যে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা ও সীমান্ত সংকটের কারণে দীর্ঘদিনের নির্ভরশীল উৎস থেকে সরে এসে ভারতের বাসমতী চাল আমদানিতে আগ্রহী হয়েছে আফগানিস্তান। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের বাণিজ্যবিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সেখানে জানানো হয়, আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ থাকায় পাকিস্তানের প্রায় ১১০ কোটি ডলারের রপ্তানি ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আরও প্রায় ২০০ কোটি ডলারের রপ্তানি কমেছে। পাকিস্তানের বাণিজ্যসচিব জাওয়াদ পল কমিটিকে জানান, খাদ্যপণ্যের রপ্তানি ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় বাসমতী চালের দাম প্রতি টন প্রায় ১১০০ ডলার, যেখানে পাকিস্তানি চালের দাম ১৩০০ ডলার। ফলে দামের প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান পিছিয়ে পড়ছে এবং বাজার হারাচ্ছে। পাকিস্তানি চালের গুণগত মান ভালো থাকলেও মূল্যের কারণে তারা টিকতে পারছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আফগানিস্তানে বার্ষিক বাসমতী চালের চাহিদা প্রায় পাঁচ লাখ টন। বর্তমানে তারা দুবাই ও ইরানের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ভারতীয় চাল কিনছে, যা আমদানি খরচ বাড়িয়ে দেয়। সরাসরি ভারত থেকে চাল আমদানি করলে খরচ কমবে এবং সরবরাহ নির্ভরযোগ্য হবে বলে মনে করছে আফগান সরকার। এ লক্ষ্যে ভারত ও আফগানিস্তানের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। নয়াদিল্লিতে আফগান কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা ভারতীয় বাসমতী চালের আমদানি বৃদ্ধিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আলোচনায় ইরানের বন্দর আব্বাস ব্যবহার করে চাল পাঠানোর প্রস্তাব রয়েছে, যার জন্য দুই সরকারের মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী বৈঠকে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকেরা পরিবহনব্যবস্থা, অর্থ পরিশোধ পদ্ধতি এবং পণ্যবিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন। ভারত আফগানিস্তান থেকে বিপুল পরিমাণ শুকনা ফল আমদানি করে, তাই পণ্যবিনিময়ভিত্তিক বাণিজ্যের সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে। ভারত অতীতে আফগানিস্তানে সীমিত পরিমাণ বাসমতী চাল রপ্তানি করেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১৯ হাজার ৪৪০ টন রপ্তানি হয়েছিল, যার মূল্য ছিল ১০৮ কোটি ৯০ লাখ রুপি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে মাত্র ৯৭৯ টন রপ্তানি হয়েছে, যার মূল্য ৭ কোটি ৭৪ লাখ রুপি। অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাকিস্তান আফগানিস্তানে প্রায় আট লাখ টন বাসমতী চাল রপ্তানি করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এই আধিপত্য হুমকির মুখে পড়তে পারে। ভারত যদি সরাসরি এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বাসমতী চাল সরবরাহ করতে পারে, তাহলে আফগানিস্তানের বাজারে পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী অবস্থান দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সম্প্রসারণশীল এই উদ্যোগ ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।