মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ফরচুন ডট কমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকাশভাড়া ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ এবার বিদেশ ভ্রমণের পরিবর্তে দেশের ভিতরেই সময় কাটানোর প্রবণতা দেখাচ্ছে। একদিনের সফর, স্বল্প দূরত্বের গাড়ি ভ্রমণ এবং ছুটির দিনগুলোতে বাসায় রান্না করে খাওয়ার মতো সাশ্রয়ী অভ্যাস বেড়েছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদযাপন দেশবাসীকে কাছাকাছি জায়গায় গ্রীষ্মের স্মৃতি তৈরি করতে উৎসাহিত করেছে। মোটর ক্লাব ফেডারেশন এএএ জানিয়েছে, ২৭ জুন থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে ৭ কোটি ২২ লাখ আমেরিকান বাড়ি থেকে অন্তত ৫০ মাইল দূরে ভ্রমণ করবেন, যা গত বছরের তুলনায় ০.৫ শতাংশ বেশি। তবে এই বৃদ্ধির পুরোটাই বাস, ট্রেন ও ক্রুজ জাহাজ ভ্রমণের কারণে; মোটরগাড়ি ও বিমান ভ্রমণের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে এএএ।
ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির ডেডম্যান কলেজ অফ হসপিটালিটির সহযোগী অধ্যাপক তারিক ডোগরু বলেন, স্বল্পসংখ্যক আমেরিকান বিদেশে বা দেশের দূরবর্তী অঞ্চলে যাচ্ছে, যার ফলে ভ্রমণ ব্যয় স্থানীয় পর্যায়েই ব্যয় হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই অর্থনৈতিক ও পর্যটন গতিশীলতা আঞ্চলিক রেস্তোরাঁ, স্থানীয় আকর্ষণ, এয়ারবিএনবি হোস্ট ও সড়কপথের ব্যবসাগুলোর দিকে ব্যয় পুনঃনির্দেশিত করছে। এই ধারা গ্রীষ্ম ও সারা বছর ধরে বজায় থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ ও পর্যটন বাণিজ্য ঘাটতি কমতে পারে, যা কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে বিরাজ করছে।
বাল্টিমোরের শিক্ষক মরগান কেইন জানান, তার পরিবার সাধারণত প্রতিটি গ্রীষ্মে একাধিক ভ্রমণ করে, যার মধ্যে ভুশিনিয়ার লেক হাউসে এক সপ্তাহের অবস্থানও ছিল। গত বছর তারা ইতালিতে ছয় সপ্তাহ কাটিয়েছিল। কিন্তু এ বছর কেবল কয়েকটি রাত ও লেক হাউসের ভ্রমণই সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, 'ভ্রমণ খরচ থেকে শুরু করে খাবার ও জ্বালানি সবকিছুর দাম অত্যন্ত বেড়ে গেছে।'
লেক তাহো অঞ্চলেও পর্যটনের চিত্র বদলাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাডার সীমান্তবর্তী এই এলাকায় পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন শহর থেকে দর্শনার্থীরা গাড়ি নিয়ে আসছেন। টাহো স্পোর্টসের মালিক রন উইলিয়ামস জানান, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে মৌসুমের শুরুতে তিনি চিন্তিত ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে নৌকা ও জেট স্কি ভাড়ার ব্যবসা প্রত্যাশার চেয়ে ভালো চলছে। ভবিষ্যতের বুকিং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। পিরামিড গ্লোবাল হসপিটালিটির অঞ্চলিক মহাব্যবস্থাপক জেরি বিন্ডেল বলেন, ভাড়া সম্পত্তির চাহিদা বেড়েছে এবং দর্শনার্থীরা রেস্তোরাঁ এড়িয়ে ভাড়া বাড়ির রান্নাঘর ও বারবিকিউ গ্রিল ব্যবহার করছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হারিকেন হেলেনের পর আশেভিল, নর্থ ক্যারোলিনার পর্যটন পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। জেন টিউবিংয়ের মালিক অব্রি অ্যান্ডারসন জানান, বর্তমানে দক্ষিণ ক্যারোলিনা, টেনেসি ও নর্থ ক্যারোলিনার অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রতিদিনের দর্শনার্থীরা আসছে, যা 'অ্যাশেভিলের জন্য জয়'। ফ্রেঞ্চ ব্রড চকলেটের প্রধান নির্বাহী জেল স্কেফিংটন বলেন, কারখানা সফরের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং দর্শনার্থীরা শুধু খাবার নয়, অভিজ্ঞতা নিতে চাইছেন।
বিশ্বকাপ আয়োজক অন্যান্য শহরের মতো কানসাস সিটি, মিসৌরিতেও ফুটবল সমর্থকদের আগমন বেড়েছে। মেড ইন কেসির সহ-মালিক কিথ ব্র্যাডলি জানান, টুর্নামেন্ট চলাকালে সব শাখায় দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট পণ্যের চাহিদা বেশি। মিডওয়েস্টের অন্যান্য শহর যেমন ডেস ময়েনস ও ওমাহা থেকে তিন ঘণ্টার ড্রাইভের মধ্যে কানসাস সিটি হওয়ায় এখানকার দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেশি। ম্যাকলেইনস বেকারির সহ-মালিক মলি লথম্যান মনে করেন, কানসাস সিটি বিশ্বকাপ আয়োজনের তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল শহর হওয়ায় পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।




